আন্তর্জাতিক

ইরান হামলা: ট্রাম্পের যুক্তি বদল, বাড়ছে অস্থিরতা…

ইরানের উপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানের ছয়দিন পরও, হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য এখনো অস্পষ্ট রয়ে গেছে। যুদ্ধ শুরুর সময় হোয়াইট হাউজ থেকে যে সমস্ত যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছিল, পরবর্তীতে সেগুলোর পরিবর্তন ঘটেছে, যা দেশজুড়ে এবং আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রাথমিকভাবে, ট্রাম্প প্রশাসন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছিলেন যে, তাদের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা এবং দেশটি যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা। তবে, এরপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই এই অবস্থান থেকে সরে আসেন এবং ইরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের কথা বলেন। যুদ্ধ শুরুর পর হোয়াইট হাউজে তার প্রথম ভাষণে তিনি আরও বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেন, যেখানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, নৌবাহিনী, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ক্ষমতা এবং এই অঞ্চলে প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে নির্মূল করার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই যুদ্ধের বৃহত্তর উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ইরানের আক্রমণ থেকে রক্ষা করা।

তবে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থান মাঝে মাঝেই শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়েছে। সোমবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্পষ্ট জানান, ইরানে শাসনব্যবস্থা উৎখাত যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ছিল না, যদিও হামলার ফলে দেশটির নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে এবং বিশ্ব এখন আরও নিরাপদ হয়েছে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হামলার ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, ইসরায়েল ইরানে হামলা চালাতে বদ্ধপরিকর ছিল এবং সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা তেহরানের পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু হতো। তাই মিশন সফল করার অনন্য সুযোগ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন আগেই হামলা করেছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই পরিবর্তিত ও পরস্পরবিরোধী অবস্থান মার্কিন কংগ্রেসে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বেশিরভাগ রিপাবলিকান ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন জানালেও, ডেমোক্র্যাট সদস্যরা প্রশ্ন তুলেছেন যুদ্ধের বৈধতা এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অভাব নিয়ে। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য অ্যাডাম স্মিথ সতর্ক করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের মধ্যে পড়তে পারে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া হয়নি। সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন এই যুদ্ধকে ‘অবৈধ ও অসাংবিধানিক’ বলে আখ্যা দেন এবং সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নাকি কংগ্রেসের, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। জবাবে আন্ডার সেক্রেটারি অব ডিফেন্স এলব্রিজ কলবি স্বীকার করেন যে, সংবিধান অনুযায়ী কংগ্রেসই যুদ্ধ ঘোষণা করবে।

এ অবস্থায়, ইরানের ভবিষ্যৎ এবং এই সংঘাতের চূড়ান্ত পরিণতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ও অপেক্ষা ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button