আন্তর্জাতিক

ইরানে মেয়েদের স্কুলে হামলা: জাতিসংঘ চায় দ্রুত তদন্ত।

ইরানের একটি মেয়েদের স্কুলে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর। মঙ্গলবার জেনেভায় এই আহ্বান জানানো হয়। তবে কারা এই হামলার জন্য দায়ী, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।

জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি জেনেভায় এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, হাই কমিশনার ভলকার তুর্ক এই হামলার পরিস্থিতি নিয়ে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ওপর জোর দিয়েছেন। এই হামলার ঘটনাকে তিনি ‘একেবারেই ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলো সংঘাতের ধ্বংস, হতাশা, অযৌক্তিকতা ও নির্মমতার চিত্র তুলে ধরছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তুর্ক সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন এবং আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

দক্ষিণ ইরানের ওই স্কুলটিতে শনিবার হামলাটি হয়, যা দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রথম দিন ছিল। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সোমবার জানান, মার্কিন বাহিনী ‘ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো স্কুলকে লক্ষ্যবস্তু করবে না।’ ইসরায়েলও জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি তদন্ত করছে।

এদিকে, জেনেভায় জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আলি বাহরেইনি ১ মার্চ তারিখে তুর্কের কাছে একটি চিঠি পাঠান। সেই চিঠিতে তিনি হামলাটিকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘অপরাধমূলক’ আখ্যা দেন এবং দাবি করেন যে, এতে ১৫০ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। তবে, জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তর জানিয়েছে, হামলাটি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত তথ্য তাদের কাছে এখনো নেই।

এই হামলার পেছনে কারা দায়ী, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘ দ্রুত তদন্তের আহ্বান জানালেও, প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করা এবং তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button