আন্তর্জাতিক

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা: ইরানের জন্য আসছে ‘অবিশ্বাস্য সুযোগ’?

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ইরাকের মতো ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান দীর্ঘস্থায়ী হবে না। একইসঙ্গে, তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে ইরানি জনগণ এই ‘অবিশ্বাস্য সুযোগ’ কাজে লাগাবে। সোমবার (২ মার্চ) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যায় পেন্টাগনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এক রাতের মধ্যে শেষ হবে না, বরং এটি একটি বড় যুদ্ধক্ষেত্র। ইরানের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখ করে তিনি এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘বড় হুমকি’ বলেও মন্তব্য করেন। তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশেই নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়ন করা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র তার স্বার্থ রক্ষায় যতদূর প্রয়োজন ততদূর যাবে, তবে তাড়াহুড়ো করে কোনো পদক্ষেপ নেবে না।

হেগসেথ আরও স্পষ্ট করেন যে, এই মুহূর্তে ইরানের ভূখণ্ডে কোনো মার্কিন সৈন্য নেই, তবে ভবিষ্যতে এমন পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা তিনি বাতিল করেননি। ইরানের জনগণকে ইঙ্গিত করে হেগসেথ বলেন, ওয়াশিংটন আশা করে যে তারা এই ‘অবিশ্বাস্য সুযোগ’ কাজে লাগাবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পূর্বের মন্তব্য ‘এখনই তোমাদের সময়’ উল্লেখ করে তিনি ইরানের জনগণের প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা দেন। একইসঙ্গে, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক করে দিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, তাদের পরবর্তী সব পদক্ষেপ খুব ভেবেচিন্তে নেওয়া উচিত।

সংবাদ সম্মেলনে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে পিট হেগসেথ বলেন, মার্কিন নাগরিকদের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের খুঁজে বের করে হত্যা করবে ওয়াশিংটন। ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান। তেহরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার সুরক্ষা কবচ হিসেবে প্রচলিত সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অভিযোগও করেন হেগসেথ। তিনি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে স্বাক্ষরিত ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিকে ‘ব্যর্থ চুক্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর সমালোচনা করেন। হেগসেথ আরও বলেন, বর্তমান অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র মূল লক্ষ্য হলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানা, নৌ-সম্পদ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা অবকাঠামো ধ্বংস করা।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য ইরানের ভবিষ্যত নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে। একদিকে সামরিক অভিযানের হুমকি, অন্যদিকে জনগণের প্রতি ‘সুযোগ’ নেওয়ার আহ্বান—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে ইরানের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ও অপেক্ষা তৈরি হয়েছে।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button