মেয়ের করুণ মৃত্যু; লাশ দেখে বাবার আত্মহনন, স্তব্ধ ব্রাজিল!
জনপ্রিয় ব্রাজিলিয়ান লেডি বাইকার ও ইনফ্লুয়েন্সার কার্লা থাইনারা এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। মর্মাহত হওয়ার মতো বিষয় হলো, মেয়ের এই মর্মান্তিক মৃত্যু এবং তার মরদেহ দেখে নিজেকে স্থির রাখতে পারেননি বাবা। এরপরই আত্মহত্যা করে তিনি নিজের জীবন শেষ করেন। গত ৩ মার্চ মাত্র ২৫ বছর বয়সে কার্লা থাইনারার মৃত্যু হয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্যাবলয়েড সংবাদ সংস্থা টিএমজেডের সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩ মার্চ স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। কার্লা থাইনারা তার মোটরসাইকেল নিয়ে হাইওয়ে দিয়ে যাওয়ার সময় একটি গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়ে যান এবং অন্য একটি গাড়ি তাকে চাপা দেয়।
তরুণী এই ইনফ্লুয়েন্সারের বাবা কার্লোস আন্দ্রেড নোগুয়েরা ছিলেন একজন রিজার্ভ মিলিটারি পুলিশ অফিসার। মেয়ের দুর্ঘটনার খবর শুনে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। প্রিয় মেয়ের নিথর দেহ দেখে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং এই শোক সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেন।
গত ৪ মার্চ কার্লা থাইনারা এবং তার বাবার সম্মানে যৌথভাবে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়। এই শোকসভায় ফেডারেল জননিরাপত্তা সচিব উপস্থিত ছিলেন এবং ঘটনাটিকে একটি ‘বড় ট্র্যাজেডি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
জানা গেছে, কার্লা থাইনারা মূলত মোটরসাইকেল সংক্রান্ত লাইফস্টাইল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করতেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন এবং তারকা খ্যাতি অর্জন করেন। ইনস্টাগ্রামে তার ৬০ হাজারেরও বেশি ফলোয়ার ছিল। মৃত্যুকালে তিনি ৭ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। সর্বশেষ গত ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি জিমে নিজের ওয়ার্কআউটের একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন সামাজিক মাধ্যমে।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ব্রাজিলের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। একই পরিবারের বাবা-মেয়ের এমন করুণ পরিণতি একদিকে যেমন শোকাহত করেছে, তেমনি ৭ বছর বয়সী শিশুকন্যার ভবিষ্যৎ নিয়েও মানুষের মনে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। এই ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে।





