রপ্তানি আয় ১৮% কমার পর যা বললেন বিশেষজ্ঞরা, সামনে কি আরও খারাপ পরিস্থিতি?

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে এক ধাক্কায় ১৮ শতাংশের বেশি পতন! সদ্য সমাপ্ত মার্চ মাসে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ছিল ৪ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার। এই নিয়ে টানা আট মাস ধরে নিম্নমুখী দেশের রপ্তানি খাত। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই–মার্চ) মোট রপ্তানি আয় কমে ৩৫ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই অংক ছিল ৩৭ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার, যা সামগ্রিক রপ্তানিতে ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশের পতন।
দেশের আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক শিল্পেও নেতিবাচক ধারা অব্যাহত। এই খাতে আয় ৫ দশমিক ৫১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২৮ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার। বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা, যেমন যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল ও ইরান উত্তেজনা এবং রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া ও রপ্তানি আদেশ স্থগিত হওয়ার মতো কারণগুলো এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এসব কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মতো বড় বাজারগুলোতেও ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই চাপ যদি অব্যাহত থাকে, তবে দেশের রপ্তানি খাতে আরও বড় সংকটের আশঙ্কা রয়েছে। যদিও হিমায়িত মাছ, চামড়া এবং প্রকৌশল পণ্যের মতো কিছু খাত কিছুটা ভালো অবস্থানে আছে, তবে তা সামগ্রিক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে যথেষ্ট নয়। চলতি অর্থবছরের শুরুতে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও পরবর্তী সময়ে এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেশের অর্থনীতির জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।





