নারী উদ্যোক্তারা কি পারবে সব বাধা পেরিয়ে? জানুন অবাক করা তথ্য!

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আজ নারী উদ্যোক্তারা দেশের অর্থনীতিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। ই-কমার্স, ডিজিটাল মার্কেটিং, ফ্রিল্যান্সিং থেকে শুরু করে অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট ও কনটেন্ট ক্রিয়েশন—সব খাতেই তাদের পদচারণা। এই নারীরা শুধু নিজেদের কর্মসংস্থানই তৈরি করছেন না, বরং অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছেন। বর্তমান জিডিপিতে নারীর অবদান ১০ শতাংশ হলেও, সঠিক সুযোগ পেলে তাদের এই অবদান ২৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা বলছে, দেশে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা ১ কোটি ১৮ লাখ ছাড়িয়েছে, যা ২০১৩ সালের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
তবে এই অগ্রযাত্রায় নারী উদ্যোক্তারা পড়েছেন নানা চ্যালেঞ্জের মুখে। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাধা, যেমন পারিবারিক অসমর্থন, এখনো একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। বিনিয়োগের সুযোগের অভাব এবং ব্যাংকঋণ পেতে হিমশিম খাওয়াও তাদের ব্যবসার প্রসারকে সীমিত করছে। ইন্টারনেট ও তথ্যের অপ্রতুলতা, অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ এবং কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক বেতন বৈষম্যও নারী উদ্যোক্তাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করছে।
অন্যদিকে, এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার জন্য রয়েছে অপার সম্ভাবনা। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ, নারীবান্ধব নীতি এবং মাইক্রোক্রেডিট সুবিধা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে। স্কিল ডেভেলপমেন্ট, আর্থিক অনুদান, পণ্য প্রদর্শনীর সুযোগ এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তাদের অন্তর্ভুক্তি নারী উদ্যোক্তাদের আরও শক্তিশালী করবে। সঠিক সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন নারী উদ্যোক্তাদের পথ আরও মসৃণ করবে। নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও জোরদার হবে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হবে।





