অর্থনীতি

ভারতে যাচ্ছে বিপুল অর্থ! জানলে চমকে উঠবেন

বাংলাদেশ থেকে বৈধ বাণিজ্য সম্পর্কের বাইরেও বিভিন্ন উপায়ে ভারতে বিপুল পরিমাণ অর্থ চলে যাচ্ছে। চাকরির সূত্রে অর্জিত রেমিট্যান্স, ভ্রমণ ও চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের পাশাপাশি বিলাসপণ্য, প্রসাধনসামগ্রী ও নেশাজাতীয় পণ্যের অবৈধ চোরাচালানের মাধ্যমে প্রতিবছর বড় অঙ্কের মুদ্রা দেশ ছাড়ছে। এই অবৈধ অর্থ পাচারের কোনও নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান না থাকলেও, ধারণা করা হচ্ছে বৈধ লেনদেনের সমপরিমাণ বা তার চেয়েও বেশি মুদ্রা অনিয়ন্ত্রিতভাবে দেশ ছেড়ে যাচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য নীরব কিন্তু গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে পাঁচ থেকে ছয় কোটি ডলার রেমিট্যান্স আকারে ভারতে যায়। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাস্তবে এই অর্থের পরিমাণ কাগজে-কলমের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকরা প্রায়শই ঘোষিত বেতনের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি অর্থ বেতন-ভাতা হিসেবে পেয়ে থাকেন, যা নানাভাবে ভারতে চলে যায়। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় আট হাজার ১৬১ জন ভারতীয় নাগরিকের কর্মানুুমতি ইস্যু করা হয়েছে। এছাড়া, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া বা শ্রেণি পরিবর্তনের তথ্য হালনাগাদ না করার কারণেও অনেকে অবৈধ হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে প্রায় ৫০ হাজার ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে বসবাস করছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

কাস্টমস কর্মকর্তা ও সীমান্তরক্ষীদের যোগসাজশে চোরাকারবারীরা ভারত থেকে প্রসাধনী, পোশাকসহ নানা ধরনের বিলাসী পণ্য অবৈধভাবে বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ করাচ্ছে। উচ্চমূল্য ও শুল্কের কারণে এসব পণ্যের বড় অংশই চোরাইপথে দেশে আসছে। যদিও আগের তুলনায় কাস্টমস কর্মকর্তারা এখন অনেক বেশি পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন, তবুও সম্পূর্ণভাবে এই চোরাচালান বন্ধ করা সম্ভব নয়। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সাড়ে চার হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যা সার্বক্ষণিক পাহারা দেওয়া অত্যন্ত কঠিন। সীমান্ত এলাকায় চোরাকারবারিরা নানা উপায়ে ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশে আনছে এবং এর বিনিময়মূল্য হিসেবে ডলার বা ভারতীয় রুপি ব্যবহার করছে। এছাড়া, বাংলাদেশ থেকে ভারতে স্বর্ণ চোরাচালান এবং ভারত থেকে আসা মাদকদ্রব্যের বিনিময়মূল্য হিসেবেও প্রচুর অর্থ সীমান্তের ওপারে চলে যায়।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button