বেঙ্গালুরুর হোটেল সংকটে: মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পৌঁছালো ভারতের দুয়ারে?

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় বেঙ্গালুরুর অসংখ্য হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এরই মধ্যে বাণিজ্যিক স্থাপনায় গ্যাসের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শনিবার বেঙ্গালুরুতে আবাসিক সিলিন্ডার গ্যাসের দাম ৬০ রুপি এবং বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ১১৫ রুপি বাড়ানো হয়েছে। এরপর সোমবার থেকে বাণিজ্যিক স্থাপনায় গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়, যা শহরের হোটেলগুলোর জন্য বড় সংকট তৈরি করেছে।
বেঙ্গালুরুর হোটেল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে তাদের হোটেলগুলো বন্ধ হওয়ার শঙ্কায় পড়েছে। তারা সতর্ক করেছে যে, এর ফলে কেবল হোটেল ব্যবসায়ীরাই নয়, বরং সাধারণ মানুষও বড় ধরনের ভোগান্তিতে পড়বে। অ্যাসোসিয়েশন আরও জানায়, যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় তাদের জানানো হয়েছিল যে আগামী ৭০ দিন গ্যাস সরবরাহে কোনো বিঘ্ন ঘটবে না। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে অপ্রত্যাশিতভাবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হারদ্বীপ সিং পুরি যদিও দাবি করেছেন যে ভারতে গ্যাসের কোনো সংকট নেই, তবে বেঙ্গালুরুতে এর মধ্যেই তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। মন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে স্থানীয় বাস্তবতার এই ফারাক জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।
হোটেল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, যতক্ষণ তাদের মজুত গ্যাস থাকবে, ততক্ষণ তারা হোটেল খোলা রাখার চেষ্টা করবে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে হোটেলগুলো বন্ধ করা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় থাকবে না। এই সংকট কবে নাগাদ কাটবে এবং এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব কী হবে, তা নিয়ে শহরজুড়ে অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তা বাড়ছে।





