অর্থনীতি

ভারতের প্রকল্পে জট: হাইকমিশনারের আশ্বাসে কি স্বস্তি?

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বাংলাদেশে ভারতের ঋণ সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন বড় প্রকল্পের বিদ্যমান জটিলতা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে এক ফলপ্রসূ বৈঠক শেষে তিনি এই কথা জানান। এই আশ্বাসে প্রকল্পগুলোর দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা কিছুটা হলেও কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রবিবার (৮ মার্চ) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের আর্থিক খাতের সহযোগিতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা উল্লেখ করেন যে, দুই দেশের যৌথ প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়ে উভয় পক্ষই সামগ্রিকভাবে সন্তুষ্ট। তবে, যেসব বড় প্রকল্পে প্রাথমিক কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে, সেগুলো দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ভারতের এই ঋণ সহায়তার অধীনে থাকা প্রকল্পগুলোর দীর্ঘসূত্রিতা সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল। হাইকমিশনারের আশ্বাসের পর প্রকল্পগুলো দ্রুত গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা পরোক্ষভাবে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বৈঠকে ব্যবসা সহজীকরণ, কর ব্যবস্থার সংস্কার এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মতো বাংলাদেশের আর্থিক খাতের অগ্রাধিকার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। ভারতের ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামোর অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে কীভাবে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরও বিস্তৃত করা যায়, তা নিয়েও মতবিনিময় হয়।

বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়েও ভারতীয় হাইকমিশনার জোর দেন। তিনি বলেন, সমুদ্র, স্থল ও আকাশপথে বিদ্যমান যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও সহজ করে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রক্রিয়া সহজ করা গেলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়বে এবং ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানিও বাড়তে পারে। দুই দেশের অর্থনীতিকে দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে আরও নিবিড়ভাবে সংযুক্ত করার বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়।

বর্তমানে এই আশ্বাস কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে সংশ্লিষ্ট মহল ও সাধারণ মানুষ। ঋণ সহায়তাপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলোর সুষ্ঠু ও দ্রুত বাস্তবায়ন দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন গতি আনবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই আশ্বাসের পর প্রকল্পগুলোর অনিশ্চয়তা কেটে গিয়ে দ্রুত অগ্রগতি হবে কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button