অর্থনীতি

৮৭ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ উধাও!

দেশের ব্যাংক খাতে আকাশচুম্বী খেলাপি ঋণের পাহাড় হঠাৎ করেই যেন ধসে পড়েছে। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে নথিপত্র থেকে কমেছে ৮৭ হাজার ২৯৮ কোটি টাকার বিশাল অংকের খেলাপি ঋণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। তবে ঋণের পরিমাণ কমলেও সাধারণ মানুষের মনে কাটছে না আতঙ্ক।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৬ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ। অথচ মাত্র তিন মাস আগে সেপ্টেম্বরে এই পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। মূলত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের হার ৪৪ শতাংশ ছাড়িয়ে গেলেও বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে এই হার কিছুটা কম।

কিন্তু কীভাবে রাতারাতি এই বিশাল অংকের খেলাপি ঋণ কমে গেল? তদন্তে দেখা গেছে, এটি কোনো ম্যাজিক নয় বরং বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ একটি ছাড়ের ফল। মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ১০ বছরের জন্য ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। দুই বছর কোনো কিস্তি না দিলেও চলবে—এমন শর্তে অনেক বড় ঋণ খেলাপিরা তাদের ঋণকে ‘নিয়মিত’ দেখানোর সুযোগ পেয়েছেন। ফলে কাগজ-কলমে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমলেও ব্যাংকে প্রকৃতপক্ষে কোনো টাকা ফেরেনি।

এদিকে খেলাপি ঋণের সংখ্যা কাগজে কমলেও ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্বাস্থ্যের কঙ্কালসার অবস্থা বেরিয়ে এসেছে। প্রায় ২ লাখ কোটি টাকার সঞ্চিতি বা প্রভিশন ঘাটতি নিয়ে ধুঁকছে দেশের ব্যাংকগুলো। সাধারণ আমানতকারীদের টাকা কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে সুযোগ দিয়ে ঋণ নিয়মিত করা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য বড় কোনো বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button