ফেসবুক পোস্ট ঘিরে সংঘর্ষে রণক্ষেত্র! আহত ১৭, ভাঙচুর দোকানপাট।

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার চরমহল্লা ইউনিয়নের কাইল্যাচর গ্রামে ফেসবুকে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত ৭ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময় বেশ কয়েকটি দোকানপাটও ভাঙচুর করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরমহল্লা ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী জামায়াত নেতা আল আমিন এবং ফুলতলী সংগঠন ইসলাহ নেতা মাওলানা নজমুল হক নসিবের সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে ভিজিএফের চালের কার্ড নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কটূক্তিমূলক পোস্টের মাধ্যমে সংঘাতময় রূপ নেয়। রাতের মধ্যেই উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একে অপরের মুখোমুখি হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এরই জেরে শনিবার সকালে কাইল্যাচর গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।
স্থানীয়দের মতে, ভিজিএফের চালের কার্ড সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই মূলত এই উত্তেজনার সূত্রপাত। পরবর্তীতে তা ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি পোস্টের মাধ্যমে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এ বিষয়ে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান তালুকদার জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আল আমিন অভিযোগ করেছেন, তাকে উদ্দেশ্য করে ফেসবুকে অশালীন ভাষায় গালাগালি ও হুমকি দেওয়া হয়। রাতে তার পক্ষের ২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির দোকানে গিয়ে মিলন নামের একজনকে মারধর করেন নসিবের লোকজন। সকালে নসিবের গোষ্ঠীর লোকজন তার সমর্থকদের বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা ও ভাঙচুর করেছে।
অন্যদিকে, অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী নজমুল হক নসিবের দাবি, তিনি ভিজিএফের কার্ডের সুবিধাভোগী হওয়ায় আল আমিন কয়েকজন লোক নিয়ে তাকে বিদ্রুপ করেন। তার সমর্থকরা ফেসবুকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও হুমকির শিকার হয়েছেন, যা থেকে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।





