৫০ কোটি টাকার শিল্পনগরী জঙ্গলে, মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি!

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিসিক শিল্পনগরী দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার ছয় বছর পরও সেখানে চালু হয়নি কোনো শিল্পকারখানা। অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পুরো এলাকা এখন জঙ্গলে পরিণত হয়েছে, পাশাপাশি চুরি হয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও যন্ত্রপাতি।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার উত্তরসুর এলাকায় প্রায় ২০ একর জমির ওপর ২০১২ সালে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই শিল্পনগরীর নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ২০১৯ সালে তা শেষ হয়। শিল্পায়নের লক্ষ্যে গড়ে ওঠা এই শিল্পনগরীতে ১২২টি প্লট, প্রশাসনিক ভবন, পাম্প হাউস, আবাসিক ভবন, ডাম্পিং ইয়ার্ড ও পুকুরসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করা হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ নিশ্চিতের কথা থাকলেও বর্তমানে এসব সুবিধা কার্যত অচল।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ প্লট ও সড়ক ঘন ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে। পিচঢালা সড়ক ভেঙে সেখানে ঘাস জন্মেছে, দ্বিতীয় প্রবেশপথ প্রায় অচেনা হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, শিল্পনগরীর গ্যাস সাবস্টেশন, বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম চুরি হয়ে গেছে। ড্রেনের লোহার জালি ও অন্যান্য ধাতব অংশও উধাও। ফলে অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও শিল্প কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।
উদ্যোক্তাদের অনাগ্রহের পেছনে রয়েছে প্লটের উচ্চমূল্য, সেবার অভাব ও প্রশাসনিক জটিলতা। ডো ইমমপেক্স লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক শামীম আক্তার হোসেন জানান, প্লট কিনেও নানা জটিলতায় কারখানা স্থাপন করতে পারেননি। পরে প্লট ফেরত দিলেও সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত না পাওয়ায় তিনি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।
শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির কার্যকরী সদস্য মো. আমজাদ হোসেন বাচ্চু বলেন, শ্রীমঙ্গল ব্যবসাবান্ধব উপজেলা হিসেবে পরিচিত হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। কোটি টাকার শিল্পনগরী নির্মাণ করা হলেও তা এখনো চালু হয়নি, যা পরিকল্পনার ঘাটতি ও অব্যবস্থাপনার প্রমাণ। জটিল ও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার কারণে প্রকৃত উদ্যোক্তারা প্লট বরাদ্দে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
তবে বিসিক কর্তৃপক্ষ নতুন করে প্লট বরাদ্দের উদ্যোগ নিয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুনায়েম ওয়ায়েছ জানান, নতুন উদ্যোক্তাদের শর্তসাপেক্ষে প্লট দেওয়া হচ্ছে—দুই বছরের মধ্যে শিল্পকারখানা স্থাপন করতে হবে। পূর্বে প্লট নিয়ে নিষ্ক্রিয় থাকা উদ্যোক্তাদেরও নোটিশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।





