হাওরের সবুজে কান্না! বাঁধের কারণে ডুবলো কৃষকের সোনালী স্বপ্ন

সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরজুড়ে দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ ফসলের মাঠ এখন পানির নিচে। ধানের থোর পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, আর কৃষকের চোখে জল। উথারিয়া বাঁধের কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় শত শত একর বোরো জমি জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে। কৃষকদের অভিযোগ, এই বাঁধ কেটে না দিলে ফসল রক্ষা করা সম্ভব নয়। তবে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, বাঁধ কেটে দিলে নদীতে পানি বেড়ে হাওর তলিয়ে যেতে পারে।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্থানীয় কৃষকরা অক্লান্ত পরিশ্রম আর বিপুল অর্থ ব্যয় করে বোরো ধানের চাষ করেছিলেন। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। অনেক কৃষকই তাদের পুঁজি হারিয়ে এখন দিশেহারা। শুধু সুনামগঞ্জ নয়, জেলার বিভিন্ন হাওরেই একই চিত্র দেখা গেছে। মধ্যনগর, চন্দ্রসোনার তাল, সোনামড়ল, ধানকুনিয়া, রুইবিল, গুরমা, ভীমখালী, শনির হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওরসহ অসংখ্য হাওরে জলাবদ্ধতার কারণে ফসল ধ্বংসের মুখে।
কৃষকদের মতে, এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হলে হাওরে স্লুইসগেট নির্মাণ অপরিহার্য। এছাড়াও, অপরিকল্পিত ফসলরক্ষা বাঁধ অনেক স্থানে জলাবদ্ধতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিচ্ছেন স্থানীয়রা। কিছু কৃষক দেশি জাতের ধানের আবাদে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন, যা জলাবদ্ধতা সহনশীল।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, হাওরে জলাবদ্ধতা একটি স্থায়ী সমস্যা এবং এটি নিরসনে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। স্লুইসগেট ও খাল খননের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় প্রায় ১ হাজার ১৮৯ হেক্টর জমি জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া জানিয়েছেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্টদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং আগামিতে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।





