ভূমধ্যসাগরে ৬ দিন অনাহারে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু: মা শয্যাতে, ভাই হাসপাতালে!

ভূমধ্যসাগরে মানব পাচার চক্রের বলি হলেন সুনামগঞ্জের ছাতকের এক যুবক। লিবিয়া থেকে সাগরপথে অবৈধভাবে গ্রিসে যাওয়ার সময় ৬ দিন ধরে অনাহারে থেকে মহিবুর রহমান (২০) নামের ওই যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাতগাঁও ইউনিয়নের গাগলাজুর গ্রামের নুরুল আমিনের ছেলে মহিবুর রহমান প্রায় ১৩ লাখ টাকার চুক্তিতে দালাল নবীর হোসেনের সঙ্গে এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা শুরু করেছিলেন। পরিবার জমি বিক্রি এবং সুদে ঋণ নিয়ে এই টাকা জোগাড় করেছিল। সম্প্রতি ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৮ জনই বাংলাদেশি। একই নৌকায় থাকা সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সাদিপুর গ্রামের মারুফ আহমদ গ্রিসে পৌঁছে মহিবুরের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দীর্ঘ অনাহারে মহিবুর দুর্বল হয়ে মারা যান। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনেক লাশ দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে সেগুলোকে মাঝ সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়। ধারণা করা হচ্ছে, মহিবুরের লাশও সাগরেই হারিয়ে গেছে।
ঘটনার পর মহিবুরের গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম। অসুস্থ হয়ে শয্যা নিয়েছেন মা মহিমা বেগম, বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন তিনি। ছোট ভাই হাফিজুর রহমানও অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। পরিবারের বড় সন্তান মহিবুরের উপার্জনেই চলত পুরো সংসার। তার এই অকাল মৃত্যুতে পরিবারটি দিশেহারা। এলাকাবাসী দালাল চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবার এমন পরিণতির শিকার না হয়। একই ঘটনায় সুনামগঞ্জের আরও কয়েকজন যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং একজন এখনো নিখোঁজ বলে জানা গেছে।





