গ্রামের বুকে জ্ঞানের মশাল! যা ঘটল কুড়িগ্রামে, অবাক হবেন জানলে

এমন এক গ্রাম যেখানে সবুজ মাঠ আর কৃষকের হাসির মাঝেও ঘটে এক অভাবনীয় ঘটনা। কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার রণজিতেশ্বর গ্রামের চিত্র এটাই। এখানে ‘অদম্য কুড়িগ্রাম গ্রন্থাগার ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। প্রতিদিন একদল শিশু-কিশোর ভিড় জমায় এই পাঠাগারে। বিভিন্ন ধরনের গল্পের বই, উপন্যাস, জীবনী আর কবিতার বই তাদের সানন্দে পাঠে আত্মনিয়োগ করতে সাহায্য করছে।
স্থানীয় তরুণরা শিশুদের বই বাছাইয়ে সাহায্য করার পাশাপাশি নিয়মিত আয়োজন করছেন নানা রকম সৃজনশীল প্রতিযোগিতা ও পাঠচক্র। শিশুরা বইয়ের গল্পে অভিনয় করে আত্মবিশ্বাস অর্জন করছে এবং সাংস্কৃতিক চেতনা গড়ে তুলছে। এই উদ্যোগের মূল কারিগর মনিরুজ্জামান মুবিন এবং শাহ মো. সাকিফুজ্জামান সাকিফ, যারা বিশ্বাস করেন শিশু-কিশোরদের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ তৈরি করতে পারলেই জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।
পাঠাগারটি শুধু শিশুদেরই নয়, তরুণদের চিন্তা ও স্বপ্ন বাস্তবায়নেরও বাহক হয়ে উঠেছে। এটি তাদের পড়ালেখা ও সাংস্কৃতিক চর্চার দিকে আগ্রহী করে তুলছে, যা উদ্যোক্তাদের জন্য উৎসাহের কারণ। স্থানীয় জনগণও স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের শিশুদের পাঠাগারে আসতে উৎসাহিত করছেন। রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল-ইমরান এই উদ্যোগকে ‘প্রশংসনীয়’ আখ্যা দিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
এই পাঠাগার যেন গ্রামের সেই শিশুদের নতুন ভবিষ্যৎ পথ দেখাচ্ছে, যারা আগে অবসর কাটাত মোবাইল বা টিভির সামনে, এখন বইয়ের টানে পাঠাগারে আসছে। এই পরিবর্তনই ‘অদম্য কুড়িগ্রাম’-এর সবচেয়ে বড় সাফল্য। উদ্যোক্তাদের স্বপ্ন কুড়িগ্রাম জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে এমন পাঠাগার গড়ে তোলা, যা আলোকিত করবে পুরো জনপদকে।





