রানা প্লাজা থেকে বেঁচে ফেরা নাসিমার শেষ পরিণতি এই পদ্মা নদীতে! যা ঘটল রাতে

২০১৩ সালের রানা প্লাজা ধসের ভয়াবহতা থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা নাসিমা বেগমের জীবন শেষ হলো পদ্মা নদীতে। ঈদ শেষে ঢাকায় ফেরার পথে বাস দুর্ঘটনায় তিনি ও তার দুই স্বজন প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য আটরাই গ্রামে।
জানা গেছে, ঢাকার সাভারে ভাগনির বাড়িতে চাকরির সন্ধানে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে নাসিমা ঈদের ছুটিতে যান ফরিদপুরে। ঈদ শেষে ভাগনি আজমিরা খাতুন (অন্তঃসত্ত্বা), তার স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ এবং চার বছরের ভাগিনেয় আব্দুর রহমানকে নিয়ে বুধবার বিকালে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
কিছুক্ষণ পর আব্দুল আজিজ আজাদ জীবিত উদ্ধার হলেও, প্রায় ছয় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাসিমা (৪০), আজমিরা ও আব্দুর রহমানের লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ।
এদিকে, নিহতদের লাশ অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসার পথে কুষ্টিয়া এলাকায় লাশবাহী গাড়িটিও দুর্ঘটনার শিকার হয়। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। শুক্রবার জুমার নামাজের পর পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।
নাসিমার চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী জানান, রানা প্লাজা ধসের সময় নাসিমা সেখানে কাজ করতেন এবং ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে তিন দিন আটকে থাকার পর অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে তিনি পুনরায় ঢাকায় গিয়েছিলেন, যা তার জীবনের শেষ যাত্রা হয়ে দাঁড়াল।
পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি আব্দুল ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন নিহত নাসিমার পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন।





