রাজশাহী বিভাগ

আইসিইউ না পেয়ে ৩ মাসের শিশু কাশফির নিথর দেহ পড়ে রইল, যা ঘটল জেলা সদরে!

নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) সুবিধা না থাকায় হামে আক্রান্ত তিন মাস বয়সী শিশু কাশফি আক্তারের মৃত্যু হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি নাটোর জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির মধ্যেই ঘটেছে, যা জনমনে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

গত সোমবার রাতে শিশু কাশফিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু সেখানেও প্রয়োজনীয় আইসিইউ সুবিধা না পাওয়ায় মঙ্গলবার সকালে শিশুটির চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন ভুঁইয়া নিশ্চিত করেছেন যে, হাসপাতালেই আইসিইউ সুবিধা না থাকার কারণে শিশুটিকে রেফার্ড করা হয়েছিল। বর্তমানে শিশুটির চিকিৎসায় কোনো ত্রুটি ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মৃত্যুর শিকার কাশফি বড় হরিশপুরের ঋষি নওগাঁ এলাকার সাইফুল ইসলামের একমাত্র সন্তান ছিল। নাটোর সদর হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় হামের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার পর্যন্ত মোট ৩৮ জন হামে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১৩ জন শিশুকে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এদের মধ্যে ৮ জন শিশু চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেলেও বাকিরা এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এই পরিস্থিতিতে, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে হামের প্রাদুর্ভাব ও প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আবুল হায়াত, নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. সুমনা সরকার সহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে শিশুকে দ্রুত সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দেন এবং জানান যে জেলায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা ও পর্যাপ্ত টিকা মজুদ রয়েছে। তিনি সকলকে সতর্ক থাকার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদে সচেতনতামূলক প্রচারণার আহ্বান জানান। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারাও হামের উপসর্গযুক্ত শিশুদের অবিলম্বে হাসপাতালে আনার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে সময়মতো চিকিৎসা দিয়ে জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button