পরিবারের কলহেই খুন ৪ মাসের শিশু, চাচীর চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে নিখোঁজের ২৮ দিন পর চার মাসের শিশু আশরাফুলের লাশ বাড়ির পেছনের টয়লেটের ট্যাংকি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুর আপন চাচি রুপা আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ এবং তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক চাচি রুপা আক্তার (২০) শিশু আশরাফুলকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। নিজের স্বীকারোক্তিতে রুপা জানান, আট বছর আগে আশরাফুলের ছোট চাচা আব্দুল হাকিমের সঙ্গে তার বিয়ে হয় এবং তাদের একটি মেয়েও আছে। আট মাস আগে তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে তাকে ও তার মেয়েকে ভরণপোষণ করতেন না। এমনকি দাদা-দাদিও তার মেয়েকে কম আদর করতেন এবং তার স্বামী বড় ভাইয়ের সন্তানদের প্রতি বেশি স্নেহ দেখাতেন।
দীর্ঘদিন ধরে এই বঞ্চনা ও অবহেলা সহ্য করতে করতে রুপার মনে জিদ, কষ্ট ও হিংসা বেড়ে যায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সুযোগ বুঝে তিনি ৪ মাসের আশরাফুলকে দোলনা থেকে তুলে বাড়ির পেছনের টয়লেটের ট্যাংকের ঢাকনা খুলে তাতে ফেলে দেন এবং পরে ঢাকনা লাগিয়ে দেন।
উল্লেখ্য, গত ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটির মা তাকে বুকের দুধ খাইয়ে পাতা ঝাড়ু দিতে যান। এ সময় শিশুটি ঘরের দোলনায় ঘুমিয়ে ছিল। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে মাকে দোলনায় আশরাফুলকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। ২৮ দিন পর গত ৩ মার্চ বাড়ির পেছনের টয়লেট ট্যাংকি পরিষ্কার করতে গিয়ে শিশুটির দাদা প্রথম লাশটি দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে।
এই নৃশংস ঘটনা কুলিয়ারচরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পরিবারের অভ্যন্তরীণ কলহের জেরে এমন মর্মান্তিক শিশুহত্যা সমাজে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয়রা এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছেন।

