হঠাৎ যা ঘটল… স্বামীর হাতে খুন খাদেরিজা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীরা যা বললেন!

ঘাতকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে উত্তাল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। লোক-প্রশাসন বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শারমিন জাহান খাদিজার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং খুনির শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও মৌন মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (১৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে ভাস্কর্যের সামনে জড়ো হয়ে শিক্ষার্থীরা একটি মৌন মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনারের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এরপর সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তারা। শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড ছিল।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষী স্বামী ফাহিমকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান। তারা বলেন, এ ধরনের নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। নিহত শারমিন জাহানের মা ফরিদা ইয়াসমিন কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, আমার মেয়েকে যে বা যারা মেরেছে, তাদের আমি সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।
জাকসু সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শারমিন জাহান তার ভাড়াটিয়া বাসায় স্বামী কর্তৃক নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন। আমি তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। হত্যাকাণ্ডের যথেষ্ট আলামত থাকা সত্ত্বেও তার স্বামী ফাহিম ছলচাতুরীর আশ্রয় নিচ্ছেন, জবানবন্দি বারবার পরিবর্তন করছেন। আমরা এই মামলার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখছি। মানববন্ধন থেকে স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই, বাহ্যিক কোনো হস্তক্ষেপ এই মামলা যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত করতে না পারে। মামলার কোনো প্রকার ব্যত্যয় ঘটলে আমরা আরো কঠোর আন্দোলনের দিকে যাবো।
লোক-প্রশাসন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. হরে কৃষ্ণ কুন্ডু বলেন, দীর্ঘদিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও আমরা এখনও সঠিক কারণ জানতে পারিনি। বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলতে থাকলে অপরাধ প্রবণতা বাড়তে থাকবে এবং আমাদের জীবনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে আমাদের বিনীত নিবেদন, অপরাধীর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিন।
উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ফাহিম মোবাইল ফোনে শারমীনের চাচা মনিরুল ইসলামকে জানান, শারমীন গুরুতর অসুস্থ। খবর পেয়ে বাসায় গিয়ে মনিরুল ইসলাম তাকে খাটের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় শারমীনকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সুরতহাল প্রতিবেদনে শারমীনের কপালের ডান পাশে ও মাথার ওপরে গভীর কাটা জখমের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার দিনই (১৫ মার্চ) শারমীনের চাচা মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গত ১৫ মার্চ শারমিনের স্বামী ফাহিম আল হাসানকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। গত ২৭ মার্চ দুই দিনের রিমান্ড শেষে ফাহিমকে ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগের আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন।





