ঢাকা বিভাগ

২১ কোটি টাকার ‘মল চত্বর’: বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কুকুরের মৃত্যু, মানব مرگের আশঙ্কা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মল চত্বর আধুনিকায়নে প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও শিক্ষার্থী ও পথচারীদের জন্য সেটি এখন ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি বৃষ্টির পর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একটি কুকুরের মৃত্যুর ঘটনা পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা।

গত বুধবার রাতে সূর্যসেন হলসংলগ্ন মল চত্বরে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে নেমে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কুকুরটি মারা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পানিতে নামার সঙ্গে সঙ্গে প্রাণীটির শরীর কাঁপতে থাকে এবং মুহূর্তের মধ্যে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এমনকি শরীর থেকে ধোঁয়াও উঠতে দেখা যায়। এই ঘটনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

প্রত্যক্ষদর্শী রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ইসরাফিল আলম বলেন, ‘আমার চোখের সামনেই কুকুরটি মারা গেল। শরীর থেকে ধোঁয়া উঠছিল। তখন আমিও ওই পানিতে নামতে পারতাম, আরও অনেকে নামতে যাচ্ছিল। আমরা না নিষেধ করলে হয়তো বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেত।’

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মল চত্বরের বৈদ্যুতিক লাইন ও আলোকসজ্জা ব্যবস্থা অপরিকল্পিতভাবে স্থাপন করা হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমলেই এসব লাইন থেকে বিদ্যুতায়িত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। কিছু ল্যাম্পপোস্ট চুরি হয়ে যাওয়ায় বৈদ্যুতিক তার উন্মুক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে, যা বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করছে।

শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে মল চত্বরে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণসহ পুরো এলাকা আধুনিকায়নে প্রায় ২১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। এতে আলোকসজ্জা, ড্রেনেজ, বসার ব্যবস্থা ও নান্দনিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের পর থেকেই নকশার ত্রুটি, পরিবেশগত ক্ষতি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. আক্রাম হোসেন বলেন, ‘মল চত্বরের কিছু লাইট চুরি হয়ে যাওয়ায় সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছিল। হঠাৎ বৃষ্টির কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’

এ বিষয়ে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এখানে যে কেউ মারা যেতে পারত। প্রকৌশল বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সতর্ক থাকব।’

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button