ঢাকাবাসীর শ্বাসরোধ: বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ৩য় স্থানে রাজধানী, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

মঙ্গলবার সকালে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে রাজধানী ঢাকা, যেখানে বাতাসের মান ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, আজ সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে ঢাকার বাতাসের স্কোর ছিল ২১৭।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে যখন বায়ুদূষণ বাড়ছে, ঠিক তখনই মেগাসিটি ঢাকা দীর্ঘ সময় ধরে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার। বেশিরভাগ সময় দূষিত শহরের শীর্ষ দশে থাকা ঢাকা আজ সকালে আইকিউএয়ারের ১২৫টি শহরের তালিকায় তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছিল।
একই সময়ে, ২৫২ স্কোর নিয়ে ভারতের রাজধানী দিল্লি বায়ুদূষণে শীর্ষে ছিল, যার বাতাসও ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত। এই তালিকায় ২৩৪ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল পাকিস্তানের লাহোর। অন্যদিকে, মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন ২০৪ স্কোর নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে ছিল।
আইকিউএয়ারের একিউআই স্কেল অনুযায়ী, ০-৫০ স্কোরকে ‘ভালো’ এবং ৫১-১০০ কে ‘মাঝারি’ ধরা হয়। ১০১-১৫০ ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ এবং ১৫১-২০০ স্কোরকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। তবে ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে থাকা স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যা ঢাকার বর্তমান পরিস্থিতি। ৩০১ বা তার বেশি স্কোরকে ‘দুর্যোগপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে দেখা হয়, যা বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার এমন ভয়াবহ বায়ুদূষণ নাগরিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়াচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য মতে, বায়ুদূষণের কারণে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর অন্তত ৭০ লাখ মানুষ মারা যান।
বিশেষজ্ঞরা ঢাকাবাসীকে বাইরে বের হলে মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে কম বের হতে বলা হয়েছে। তারা মনে করছেন, শহরের সবুজায়ন ও গাছপালা বৃদ্ধির মাধ্যমে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
বায়ুদূষণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে রাজধানী ঢাকার জনস্বাস্থ্য আগামী দিনে আরও বড় সংকটের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সুস্থ জীবনের জন্য নির্মল বাতাসের প্রত্যাশায় এখন উদ্বেগ নিয়ে অপেক্ষা করছেন ঢাকাবাসী।





