চলন্ত বাস থেকে ফেলে দেওয়া হলো শিক্ষার্থীকে, যা হলো এরপর!

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে চলন্ত বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই অভিযোগে ‘ঠিকানা পরিবহন’-এর ছয়টি বাস দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টা আটকে রাখার পর ২৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ নিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলমের উপস্থিতিতে বাস মালিকপক্ষের সাথে আলোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আল মামুন সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৫৩ ব্যাচের ছাত্র। গতকাল রাতে আল মামুনকে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা ঠিকানা পরিবহনের ছয়টি বাস আটক করে। আজ উভয়পক্ষের আলোচনার পর বাস মালিকপক্ষ আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যয়ভার ও এক মাসের খরচসহ মোট ২৫ হাজার টাকা প্রদান করে। এরপর আটককৃত বাসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।
আল মামুন জানান, তিনি গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশমাইল এলাকা থেকে ঠিকানা পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। ডেইরি গেটে নামতে চাইলে বাসের হেলপার তার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে এবং জাবির শিক্ষার্থীদের বাসে না তোলার কথা বলে। এক পর্যায়ে অন্য এক হেলপার তাকে চলন্ত বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এতে তার হাঁটু, হাতে এবং মাথায় আঘাত লাগে।
‘ঠিকানা’ পরিবহনের ম্যানেজার মো. কবির হোসাইন ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসা ও অন্যান্য খরচের জন্য তারা ২৫ হাজার টাকা দিয়েছেন। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে তারা পরিবহন মালিকদের সাথে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জানান, বাস মালিকপক্ষ নিজেদের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং মুচলেকা দিয়েছেন যে ভবিষ্যতে তারা শিক্ষার্থীদের সাথে ভালো ব্যবহার করবেন। ক্ষতিপূরণের ২৫ হাজার টাকার মধ্যে ১২ হাজার টাকা শিক্ষার্থীর চিকিৎসা (এক্সরে, সিটিস্ক্যান ও ঔষধসহ) বাবদ এবং ১৩ হাজার টাকা তার এক মাসের চলার খরচ হিসেবে প্রদান করা হয়েছে, কারণ শিক্ষার্থী টিউশনির মাধ্যমে নিজের খরচ চালাতেন। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে চলাচলকারী পরিবহনগুলোর মালিকপক্ষের সাথে আলোচনা করে এ বিষয়ে একটি স্থায়ী সমাধানের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।





