ঢাকা বিভাগ

ঈদযাত্রা ভয়াবহ, রক্তে রাঙা সড়ক! মন্ত্রীর দাবি “নির্বিঘ্ন”, তবুও কেন এই মৃত্যু মিছিল?

প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদযাত্রা যেন পরিণত হয়েছে এক মর্মান্তিক অভিজ্ঞতায়। সরকারি ছুটি বাড়িয়েও লাভ হয়নি, সড়ক, রেল ও নৌপথে অতিরিক্ত ভাড়া, যানজট আর অব্যবস্থাপনার কারণে প্রাণহানি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বেসরকারি হিসাব অনুযায়ী, ঈদের আগে-পরে মাত্র ১৩ দিনে তিন শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৯ শতাধিক। বিশেষ করে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়ক, রেল ও নৌপথে সমন্বিত এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে না পারায় এমন প্রাণহানি ঘটছে। বিশেষ করে অব্যবস্থাপনার কারণে এসব দুর্ঘটনায় মৃত্যুকে ‘কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে দেখছেন তারা। কেবল ছুটি বৃদ্ধি নয়, বরং পরিবহন খাতের অব্যবস্থাপনা দূর করে একটি কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ রুটেও ঘটেছে ভয়াবহ সব দুর্ঘটনা।

বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির তথ্যমতে, এবারের ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা, হতাহতের সংখ্যা গত বছরের চেয়েও ঊর্ধ্বমুখী। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাবেও একই চিত্র। যদিও সড়ক পরিবহন, সেতু, রেল ও নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করার দাবি করেছেন, তবে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

বুয়েটের অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান এবং যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান উভয়েই একমত যে, ঢাকাকেন্দ্রিক বিনিয়োগ, যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতা এবং সমন্বয়হীনতার Lack-এর কারণেই এই মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটছে। শুধু ছুটি বাড়িয়ে নয়, বরং পরিবহন খাতের সকল স্তরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, প্রতি বছর ঈদের আনন্দ পরিণত হবে গভীর শোক আর কান্নায়।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button