বিষাক্ত মদের বড় চালান ঢাকায়: ঈদ ঘিরে ছক… গ্রেপ্তার ২

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকায় বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় মদ মজুদের অভিযোগে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব মদ উদ্ধার করা হয়। ডিএনসির দাবি, গ্রেপ্তারকৃতরা ঈদকে কেন্দ্র করে অবৈধ মদের বাজার চাঙ্গা করতে এই চালান মজুদ করেছিল।
ডিএনসি জানায়, গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাজারীবাগ থানাধীন বছিলা ওয়েস্ট ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালানো হয়। ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসানের তত্ত্বাবধানে সহকারী পরিচালক মোস্তাক আহমেদের নেতৃত্বে একটি দল তল্লাশি চালিয়ে ৬৫ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত মদের মধ্যে রয়্যাল স্ট্যাগ, আইস ভদকা, ব্লেন্ডার্স প্রাইড ও ম্যাকডাওয়েলসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ ছিল, যার মোট পরিমাণ প্রায় ৪৮ লিটার।
আটককৃতরা হলেন মো. গাউসুল আজম প্রিন্স (৩৪) ও মো. আবদুর রহমান (৩৭)। এ সময় তাদের কাছ থেকে মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গাউসুল আজম প্রিন্স দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ মদ পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করে আসছিল। অপর আসামি আবদুর রহমান ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার সীমান্ত এলাকা থেকে এই ভারতীয় মদ সংগ্রহ করে ঢাকায় প্রিন্সের কাছে সরবরাহ করত। রমজান ও আসন্ন ঈদে চাহিদা বাড়ার সুযোগ নিয়ে তারা এই বড় চালান মজুদ করেছিল বলে ডিএনসি জানিয়েছে।
ডিএনসি কর্মকর্তারা সতর্ক করে জানান, চোরাইপথে আনা এসব মদে প্রায়ই ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানো থাকে, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। ভেজাল এসব মদ সেবনে দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হওয়া থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। সাধারণ মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য রক্ষায় এসব অবৈধ মাদকের বিস্তার রোধ জরুরি।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮-এ হাজারীবাগ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মদের নমুনা রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে ডিএনসি। গত জানুয়ারিতেও রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একটি ভেজাল মদের কারখানার সন্ধান পায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে অবৈধ মাদকের বিস্তার রোধে রাজধানীসহ দেশব্যাপী এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি, যা সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিলেও অবৈধ মাদকের বিস্তারের উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।





