হত্যা করে পুঁতে রাখা: ভাই-বোনকে যাবজ্জীবন দণ্ড!

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় চাঞ্চল্যকর এক হত্যা মামলায় ভাই-বোনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মামাতো বোনের স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ পাটক্ষেতে পুঁতে ফেলার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই রায় দেওয়া হয়। সোমবার মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়ের হাসান আসামিদের অনুপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সিংগাইর উপজেলার কানাইনগর এলাকার প্রয়াত জয়নাল পালের সন্তান সাহেদা বেগম (৩২) ও তার ভাই মো. লিয়াকত আলী (৪৫)। এই মামলায় অপর আসামি মো. আজমত মিয়াকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নুরতাজ আলম বাহার জানান, যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন। অনাদায়ে তাদের আরও কারাভোগ করতে হবে। আসামিদের অনুপস্থিতিতেই এই রায় ঘোষণা করা হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ২২ অক্টোবর সাহেদা ও লিয়াকত আলী তাদের মামাতো বোনের স্বামী কাশেদ আলীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। হত্যাকাণ্ডের পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে পাটক্ষেতে পুঁতে রাখা হয়। এ ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ২৩ অক্টোবর, ২০১৪ তারিখে নিহতের স্ত্রী সিংগাইর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ২২ জুলাই সিংগাইর থানার তৎকালীন এসআই রুহুল আমিন তিনজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এই মামলায় ২২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।
এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘ এক দশক পর এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হলো। তবে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের গ্রেফতারের পর রায় কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এই রায় সমাজে অপরাধ দমনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় জনমনে আস্থা বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।





