কক্সবাজারে অবৈধ পাম্প বিস্ফোরণ: দগ্ধ ১৫, তদন্ত কমিটি গঠন

কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় সরকারি অনুমোদন ছাড়াই নির্মিত একটি এলপিজি গ্যাস পাম্পে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় অন্তত ১৫ জন দগ্ধ হয়েছেন এবং আশেপাশের অর্ধশতাধিক বাড়িঘর ও দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাম্পের নিকটস্থ গ্যারেজে থাকা অন্তত ১৫টি গাড়িও পুড়ে গেছে। গত বুধবার রাতে ‘এন আলম ফিলিং স্টেশন’ নামের সদ্য নির্মিত এই পাম্পটিতে আগুন লাগে।
ভয়াবহ এই বিস্ফোরণে দগ্ধ ১৫ জনের মধ্যে ১০ জনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় থাকা ছয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট, সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও বিমান বাহিনী যৌথভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রায় সাত ঘণ্টার চেষ্টায় রাত পৌনে দুইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিসের কক্সবাজার স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক মোরশেদ হোসেন জনতা টাইমসকে জানান, পাম্পটি সম্পূর্ণ চালু না হলেও গ্যাস আনলোডের সময় এই বিস্ফোরণ ঘটে। তিনি নিশ্চিত করেন যে, পাম্পটি সরকারি অনুমতিবিহীন এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই চলছিল। এই ঘটনায় পাম্পের মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আ. মান্নান এবং সদর মডেল থানার ওসি ছমির উদ্দিন জানান, যৌথ বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের কারণে ক্ষয়ক্ষতি আরও ব্যাপক হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে।
এদিকে, ঘটনার তদন্তে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোহাম্মদ শাহিদুল আলমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
পাম্পটির মালিক নুরুল আলম ওরফে এন আলম রামু উপজেলার চাকমারকুল এলাকার বাসিন্দা এবং তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান এবং কক্সবাজার-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
অনুমোদনবিহীন এই গ্যাস পাম্পের নির্মাণ ও কার্যক্রম নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনার মূল কারণ এবং এর পেছনের দায়ীদের চিহ্নিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ভবিষ্যতে অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে প্রশাসনের নজরদারি ও কঠোরতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে।





