ডিজেল নেই, বোরো ক্ষেতে আগুন! কান্না হারানো কৃষকদের কী হবে?

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলাজুড়ে বোরো ধানের ভরা মৌসুমে চলছে তীব্র ডিজেল সংকট। সেচ পাম্প চালাতে প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পেয়ে হাজারো কৃষক চরম বিপাকে পড়েছেন। সময়মতো জমিতে পানি দিতে না পারায় বিস্তীর্ণ বোরো ক্ষেত শুকিয়ে চৌচির হয়ে যাচ্ছে, যা এবার ধান উৎপাদনে এক বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, সেচের পানির অভাবে ফসলি জমি শুকিয়ে ফেটে যাচ্ছে, ধানের চারাও শুকিয়ে নষ্ট হচ্ছে। কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ স্পষ্ট। স্থানীয় কৃষক জাকির ফরাজি বলেন, “এক একর জমিতে ধান লাগিয়েছি, এখন পানি না দিতে পারলে সব শেষ হয়ে যাবে। তেলের অভাবে পাম্প বন্ধ। আর কোথাও তেল পাওয়া যাচ্ছে না।” তিনি আরও বলেন, “ধার-দেনা করে চাষ করেছি, এবার ফসল নষ্ট হলে পথে বসতে হবে।”
সেচ পাম্প মালিক ও জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ খুবই কম। ডিপো থেকেই পর্যাপ্ত ডিজেল আসছে না, ফলে কৃষকদের চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না। কামিনী ফিলিং স্টেশনের এক কর্মকর্তা জানান, কৃষকদের লম্বা লাইন ধরে দাঁড়িয়েও সর্বোচ্চ ১০০০ টাকার তেল দেওয়া যাচ্ছে, যা দিয়ে পুরো জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব নয়।
তবে জেলা প্রশাসন বলছে, জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট রোধে নিয়মিত বাজার তদারকি ও অভিযান চলছে। বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা জানান, মজুত বা অতিরিক্ত দামে বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) সূত্রে জানা গেছে, সেচ কার্যক্রম সচল রাখতে কৃষকদের তেল সংগ্রহের জন্য লিখিত অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বোরো মৌসুমে সেচের ওপর ব্যাপক নির্ভরশীলতার কারণে ডিজেল সরবরাহে সামান্য ব্যত্যয়ও উৎপাদনে বড় প্রভাব ফেলে। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে শুধু বাবুগঞ্জ নয়, পুরো বরিশাল অঞ্চলের ধান উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষকরা দ্রুত পর্যাপ্ত ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।





