চট্টগ্রাম বিভাগ

জোড়া খুনের আসামি জামিনে বাইরে! পুলিশের চেষ্টার পরও যা ঘটল…

চট্টগ্রামের চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের মামলার দুই আসামি মোবারক হোসেন ইমন ও বোরহান উদ্দিনকে ছয় সপ্তাহের জামিন দিয়েছেন উচ্চ আদালত। পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের গ্রেপ্তারের জন্য দীর্ঘ প্রচেষ্টা চালানো হলেও তারা অধরাই থেকে যায়। দীর্ঘদিন ধরে পালিয়ে থাকা এই দুই আসামি আদালতে হাজির হয়ে জামিন পেতে সক্ষম হয়েছেন।

মোবারক ইমন ও বোরহানের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র মামলাসহ সাত থেকে আটটি মামলা রয়েছে। তারা দুজনই পরিচিত অপরাধী ছোট সাজ্জাদ aliases সাজ্জাদ হোসেনের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। ছোট সাজ্জাদ বর্তমানে কারাগারে বন্দী, এবং তার বড় ভাই সাজ্জাদ আলী খান বর্তমানে বিদেশে পলাতক।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৩০ মার্চ ভোরে নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা এলাকায় ধাওয়া করে একটি প্রাইভেট কারে গুলি চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বখতেয়ার হোসেন মানিক ও আব্দুল্লাহ নিহত হন এবং আরও দুজন আহত হন। নিহত মানিকের মা ফিরোজা বেগম এই ঘটনায় তিন দিন পর বাকলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় সাজ্জাদ, তার স্ত্রী শারমিন আক্তার তামান্না, মোবারক ইমন, বোরহান উদ্দিনসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, কারাগারে থাকা ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রীর `পরিকল্পনায়` এই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভুঁইয়া বলেছেন, জোড়া খুনের মামলার দুই আসামি হাইকোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের জামিন পেয়েছেন। এটি কেবল পুলিশের জন্যই নয়, অন্যান্য সংস্থাও তাদের ধরতে চেষ্টা করেছিল।

চন্দনপুরার ওই ঘটনায় নিহত দুজনই ছিলেন আরেক তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সরোয়ার হোসেন বাবলার অনুসারী। সেদিন একই গাড়িতে থাকা বাবল র্প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে গত বছরের ৫ নভেম্বর বায়েজিদ থানার চালিতাতলী এলাকায় বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনী প্রচারে গুলিতে খুন হন বাবল। পরদিন তার বাবা আব্দুল কাদের যেই মামলাটি দায়ের করেন, তাতেও মোবারক ইমন ও বোরহানকে আসামি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিদেশে থাকা বড় সাজ্জাদের `নির্দেশে` বাবলকে হত্যা করা হয়।

এই দুই সাজ্জাদের অনুসারীদের বিরুদ্ধে পতেঙ্গা সৈকতে ঢাকাইয়া আকবরকে গুলি করে হত্যা, নগরে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে দুই দফায় গুলি চালানো, এবং নগরের কুয়াইশ এলাকায় জোড়া খুনের মতো আরও বেশ কিছু ঘটনায় মামলা হয়েছে। পুলিশের দাবি, ছোট সাজ্জাদ কারাগারে ও বড় সাজ্জাদ বিদেশে থাকলেও তাদের অনুসারীরা নগরে কয়েকটি সংঘবদ্ধ দল পরিচালনা করছে এবং এই দলগুলোই হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিল।

এই দুই আসামির জামিনের আদেশ গত সপ্তাহে চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানায় পৌঁছায়। পুলিশের কঠোর নজরদারি থাকা সত্ত্বেও তারা আদালতে হাজির হয়ে জামিন নিতে সক্ষম হয়।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button