কুয়াকাটার রহস্যময় পালতোলা নৌকা ধ্বংসের মুখে, জানলে চমকে উঠবেন!

পটুয়াখালীর পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় উদ্ধার হওয়া দুই শতাধিক বছরের পুরোনো এক ঐতিহাসিক পালতোলা নৌকা অযত্ন-অবহেলায় ধ্বংসের পথে। দুই শতাব্দী পুরোনো এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনটি সংরক্ষণের অভাবে বৃষ্টি আর রোদে ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থা দেখে হতাশ পর্যটকদের অনেকেই। তারা দ্রুত নৌকাটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করে একটি জাদুঘর নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন, যা এই অঞ্চলের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে রক্ষা করবে।
জানা যায়, ২০১২ সালে জেলেরা কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের বালু খুঁড়ে নৌকাটির সন্ধান পান। ২০১৩ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উদ্যোগে এটি উদ্ধার করা হয় এবং কুয়াকাটা শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধবিহার সংলগ্ন বেড়িবাঁধের পাশে স্থাপন করা হয়। প্রায় ৭২ ফুট দীর্ঘ এই কাঠের নৌকাটি রাখাইন সম্প্রদায়ের তৈরি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি উদ্ধারের সময় তামার পেরেক, নারিকেলের ছোবড়া, ভাঙা মৃৎপাত্রসহ বিভিন্ন প্রত্নবস্তুও পাওয়া যায়, যা এখন বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। তবে নৌকাটি উদ্ধারের এক যুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এর স্থায়ী সংরক্ষণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয়দের মতে, ২৫০ বছর আগে বার্মার আরাকান অঞ্চল থেকে রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজন এমন নৌকায় করে বাংলাদেশে এসেছিলেন। পর্যটকরা নৌকাটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব স্বীকার করলেও এর বেহাল দশা দেখে হতাশা প্রকাশ করছেন। তারা মনে করেন, সরকারি উদ্যোগ নিলে এটি আরো ভালোভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব। নৌকার দেখভালের দায়িত্বে থাকা কর্মী জানান, পর্যটকদের এক বড় অংশ এই নৌকা দেখতে আসেন, কিন্তু এর উন্নয়নের অভাব তাদের হতাশ করে।
কুয়াকাটা শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধবিহারের উপাধ্যক্ষ ইন্দ্র বংশ ভিক্ষু বলেন, এটি রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী বাহন এবং তাদের আগমনের সাক্ষী। ‘আমরা কুয়াকাটাবাসী’ সংগঠনের সভাপতি হাফিজুর রহমান আকাশ বলেন, একটি জাদুঘর নির্মাণ করে এটি সংরক্ষণ করা উচিত, নতুবা এটি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘরের সহকারী কাস্টোডিয়া আরিফুর রহমান জানান, নৌকাটি সংরক্ষণের এবং কুয়াকাটায় একটি জাদুঘর নির্মাণের পরিকল্পনা চলছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই প্রাচীন নিদর্শনটি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে তা পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।





