পেট্রোল পাম্পে তেল মজুদ, বেশি ভাড়ার পকেট কাটায় যা হলো!

সারা দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকটকে কেন্দ্র করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং তথ্য গোপন করে তেল মজুদের অভিযোগে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। একইসঙ্গে, যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে গণপরিবহনের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শনিবার বিকেলে সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। অভিযানে ভাটিয়ারী ফিলিং স্টেশন নামক একটি পেট্রোল পাম্পকে তেলের মজুদ সংক্রান্ত সরকারি তথ্য গোপন এবং অসঙ্গতির দায়ে মোবাইল কোর্ট আইনে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ওই ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ তাদের ট্যাংকে ১ হাজার ১১৬ লিটার অকটেন মজুদের তথ্য দিলেও, পরিমাপ করে বাস্তবে ১ হাজার ৬৯ লিটার বেশি অকটেন পাওয়া যায়। এই তথ্য গোপন করার দায়ে তাৎক্ষণিকভাবে এই জরিমানা করা হয়।
ইউএনও ফখরুল ইসলাম জানান, উপজেলার প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে অবৈধভাবে তেল মজুদ বা পাচার রোধে একজন করে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের মাধ্যমে নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে। বেশিরভাগ পাম্পের হিসাব সঠিক থাকলেও ভাটিয়ারী ফিলিং স্টেশনে অসঙ্গতি পাওয়ায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, যাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতে অলংকার-সীতাকুণ্ড রুটে চলাচলকারী তিনটি বাসের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রমাণ পাওয়া যায়। ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই তিনটি বাসকে ২ হাজার টাকা করে মোট ৬ হাজার টাকা জরিমানা করে।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ যাত্রীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এই ধরনের অনিয়ম বন্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাত্রীদের নির্দিষ্ট ভাড়ার চেয়ে বেশি চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিবহন মালিক ও চালকদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের এই উদ্যোগ সময়োপযোগী এবং জনস্বার্থবান্ধব। ধারাবাহিক নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগ অব্যাহত থাকলে জ্বালানি খাত ও গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে।





