পাহাড়ের চূড়ায় মেঘেরা, বান্দরবানের অচেনা সৌন্দর্যের হাতছানি!

দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলা বান্দরবান যেন এক অন্য জগৎ! যেখানে পাহাড়ের মেঘ ছুঁয়ে দেখা যায়, আর ১১টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনযাত্রা এক জীবন্ত ক্যানভাস তৈরি করেছে। মার্মা, ম্রো, তঞ্চঙ্গ্যাদের ‘জুম’ চাষ পদ্ধতি, হাতে বোনা ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র আর বিন্নি চালের পিঠার স্বাদ এক আদিম অভিজ্ঞতার জানান দেয়।
কথিত আছে, বানরদের হাতেই এই এলাকার নাম হয়েছিল ‘বান্দরবান’। শত বছরের পুরোনো বোমাং রাজবাড়ি আর ঐতিহ্যবাহী ‘রাজ পুণ্যাহ’ উৎসব আজও সেই ইতিহাসের সাক্ষ্য দেয়। বাংলাদেশের ‘ছাদ’ বলে পরিচিত বান্দরবানে রয়েছে দেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ তাজিনডং ও কেওক্রাডং। জাদিপাই, নাফাখুমের মতো মনোমুগ্ধকর ঝর্ণা আর সাঙ্গু-মাতামুহুরী নদীর কলতান পর্যটকদের মুগ্ধ করে। নীলগিরি, নীলাচলের মেঘের সমুদ্র আর বগা লেকের নীল জল যেন এক ঐশ্বরিক দৃশ্য।
শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই নয়, বান্দরবান মূল্যবান সেগুন, গামারি, গর্জন কাঠেরও বড় বাজার। এখানকার আনারস, কলা, পেঁপে, কমলা, লেবু এবং বিশেষ করে তিন রঙের বিন্নি চাল ও সুস্বাদু ভুট্টা পর্যটকদের দারুণ আকর্ষণ। পাহাড়ের চূড়ায় মেঘেদের আনাগোনা আর পাহাড়ি মানুষের অকৃত্রিম আতিথেয়তা বান্দরবানকে করেছে এক অনন্য মিলনস্থল।





