রাজনীতি

“বাংলার ক্যাপ্টেন” বলায় চাকরিচ্যুত ইমাম, বিতর্ক কুমিল্লার বুড়িচংয়ে

কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহকে “বাংলার ক্যাপ্টেন” উল্লেখ করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় চাকরি হারিয়েছেন এক মসজিদের ইমাম। শনিবার কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের শংকুচাইল গ্রামের দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল্লাহ মিজানকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, সম্প্রতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ আসনে শাপলা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহকে অভিনন্দন জানিয়ে মাওলানা আব্দুল্লাহ মিজান তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি ব্যানার পোস্ট করেন। সেখানে তিনি সংসদ সদস্যকে ‘বাংলার ক্যাপ্টেন’ বলে সম্বোধন করে শুভেচ্ছা বার্তা দেন। এই পোস্ট দেওয়ার পর থেকেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ হানিফ মিয়া, মসজিদ কমিটির সভাপতি ফিরুজ মিয়া এবং তাদের অনুসারীরা ইমামের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করতে শুরু করেন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার মসজিদ কমিটির এক বৈঠকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ মিয়ার চাপে মাওলানা আব্দুল্লাহ মিজানকে ইমামের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলমান রমজান মাস শেষ হওয়ার পর এটি কার্যকর হবে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত দশ বছর ধরে মাওলানা আব্দুল্লাহ মিজান এই মসজিদে ইমামতি করছিলেন। তিনি নিয়মিত নামাজ পরিচালনা, কোরআন শিক্ষা ও বিভিন্ন ধর্মীয় কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন। একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে হঠাৎ তার এই চাকরিচ্যুতির ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে বিস্ময় ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ইমাম মাওলানা আব্দুল্লাহ মিজান এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে কিছু বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “এই বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। আপনারা আমাকে বিপদে ফেলবেন না। এখন কথা বললে আমি এই মাসের বেতনও পাব না।” অন্যদিকে, মসজিদ কমিটির সভাপতি ফিরুজ মিয়া চাকরিচ্যুতির কারণ হিসেবে বলেন, “হুজুর হয়ে কীভাবে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়, তার আরো কিছু নৈতিক সমস্যা আছে তাই তাকে বিদায় করে দিয়েছি।”

এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভির হোসেন জানান, তিনি এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাননি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনা স্থানীয় মানুষের মধ্যে মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের বিস্তার নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ করে দিয়েছে।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button