ইরান যুদ্ধের আগুন ছড়িয়ে পড়ছে, তুরস্কের ভূমিকা কি?

ইরানে চলমান মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসন তুরস্কের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেশী হিসেবে তুরস্ক এই যুদ্ধকে নিরাপদ দূরত্বে বসে দেখার সুযোগ পাচ্ছে না। রাজনৈতিক দূরত্ব বজায় রেখে যুদ্ধের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা দেশটির পক্ষে সম্ভব নয়। এটি এমন একটি যুদ্ধ যা তুরস্কের কৌশলগত পরিমণ্ডলজুড়ে বিস্তৃত হচ্ছে এবং একই সঙ্গে তাদের সীমান্ত, অর্থনীতি, কূটনীতি ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করছে। এখন প্রশ্ন হলো, কোনো পক্ষ না হয়ে তুরস্ক কীভাবে এই যুদ্ধের আঞ্চলিক বিস্তার রোধ করতে পারে।
বর্তমানে তুরস্কের মূল নীতি হলো—নিষ্ক্রিয় নিরপেক্ষতা নয়, বরং যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়ে কূটনীতির সংমিশ্রণে সুচিন্তিত কৌশল নির্ধারণ করা, যাতে তুরস্ক ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং যুদ্ধও থেমে যায়। ন্যাটোর সদস্য হওয়া সত্ত্বেও ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ স্থলসীমান্ত এবং গভীর ভৌগোলিক, বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক নির্ভরশীলতা তুরস্ককে এক জটিল পরিস্থিতিতে ফেলেছে। আঙ্কারা বোঝে, ইরানের পতন বা যুদ্ধের অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার মধ্যপ্রাচ্যকে আরও বিশৃঙ্খল করবে। নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতির দিক থেকে এই যুদ্ধ তুরস্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যুদ্ধ সীমান্ত ছাড়িয়ে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানছে, যা তুরস্ককে সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। এছাড়া, ইরাক ও সিরিয়ার পরিবর্তিত পরিস্থিতি তুরস্কের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। অন্যদিকে, জ্বালানি মূল্যের ঊর্ধ্বগতি, পরিবহন ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা তুরস্কের অর্থনীতির ওপর গুরুতর চাপ সৃষ্টি করেছে। লক্ষ লক্ষ শরণার্থীর সম্ভাব্য আগমনও একটি বড় মানবিক ও ভূ-রাজনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে।
তুরস্ক যুদ্ধের বিস্তার রোধের পাশাপাশি উপসাগরীয় আরব দেশগুলো যাতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সহযোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধে পূর্ণ অংশগ্রহণ না করে, সেদিকেও নজর রাখছে। পাকিস্তান, মিসর ও সৌদি আরবের সঙ্গে একটি কার্যকর মধ্যস্থতা কাঠামো বজায় রাখার চেষ্টা করছে আঙ্কারা। তুরস্ক এই যুদ্ধকে কেবল কৌশলগত সুবিধা লাভের চালবাজি হিসেবে দেখছে না, বরং যুদ্ধোত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের দিকেও দৃষ্টি রাখছে।





