দল ভাঙলো উদীচী! হাসিনার ক্যারিকেচার বিতর্কে যা ঘটল রাতের অন্ধকারে!

সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী’ এখন তীব্র অন্তর্দ্বন্দ্বে। সম্প্রতি শেখ হাসিনার ক্যারিকেচার প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির ভেতরের বিভেদ চরমে পৌঁছেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদীচীর তথাকথিত ‘প্রগতিশীল’ অংশটি এখন অস্তিত্ব সংকটের মুখে।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘকাল ধরে সংগঠনটি ‘প্রগতিশীলতার’ আড়ালে ভারতীয় ন্যারেটিভ এবং ইসলামোফোবিয়া ছড়িয়ে আসছে। ১৬ বছরের আওয়ামী শাসনামলে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার বা রাষ্ট্রীয় জুলুমের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে না তুলে, বরং ‘অসাম্প্রদায়িকতার’ নামে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত করার অভিযোগও উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।
চলতি বছরের ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ক্যারিকেচার প্রদর্শনকে ঘিরে সংগঠনটির ভেতরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। উদীচীর একটি অংশ এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে এবং এটিকে ‘হাসিনা-তোষণ’ বলে আখ্যায়িত করে। তাদের মতে, এটি জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং সংগঠনটির পতনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
অন্যদিকে, সংগঠনটির অপর অংশ দাবি করছে, ক্যারিকেচার প্রদর্শনীটি ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার দমনপীড়নের প্রতীকী উপস্থাপন। তারা মনে করে, যারা শেখ হাসিনাকে গণহত্যাকারী বা ফ্যাসিবাদী হিসেবে দেখতে চায় না, তারাই প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
এই বিভাজন আরও স্পষ্ট হয় সংগঠনের ২৩তম জাতীয় সম্মেলনে, যেখানে নতুন কমিটি গঠন নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে নজিরবিহীন হট্টগোল হয়। পরবর্তীতে সংগঠনটি দুটি পৃথক অংশে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের ‘সাংস্কৃতিক উইং’ হিসেবে পরিচিত উদীচী এখন নিজের ভারেই ভেঙে পড়ছে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশের মানুষ আর কোনো ‘আমদানি করা’ সংস্কৃতি বা ইসলামোফোবিক রাজনীতি গ্রহণ করবে না। উদীচীর এই ভাঙন তাদের দীর্ঘদিনের ভণ্ডামিরই অনিবার্য পরিণতি বলে মনে করছেন তারা।





