ইরানের হামলার ভয়ে ইসরাইলের নতুন চাল! ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে এআই ব্যবহার

গাজা উপত্যকার যুদ্ধ এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ইসরাইল তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করছে। গত বছরের সংঘাতগুলোতে যখন কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হতো, তখন পুরো শহরজুড়ে সাইরেন বেজে উঠত এবং বাসিন্দাদের বার বার আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটতে হতো। কিন্তু এখন এই সতর্কতা ব্যবস্থা অনেক বেশি উন্নত এবং নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ হয়ে উঠেছে।
ইসরাইলের সিভিল ডিফেন্স ক্রমাগত হামলার আশঙ্কার মধ্যেও সাধারণ জীবনযাত্রা কিছুটা স্বাভাবিক রাখার জন্য তাদের সতর্কতা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে। এই পরিবর্তনের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, যা আসন্ন ক্ষেপণাস্ত্র কোথায় আঘাত হানতে পারে তা নির্ভুলভাবে পূর্বাভাস দিতে সহায়তা করছে। হামাসের হামলার পর থেকে হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট এবং ড্রোন হামলা হয়েছে ইসরাইলে। প্রতিটি হামলার ক্ষেত্রে ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ, সময়, আবহাওয়া, উৎক্ষেপণের কোণ ও রাডার সংকেতসহ বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা হয়। এই বিপুল তথ্য এআইয়ের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হয়, যা মানুষের পক্ষে এত দ্রুত ও নিবিড়ভাবে করা সম্ভব নয়।
এআই লক্ষ লক্ষ ডেটা একত্র করে বিশ্লেষণ করে, যা কৌশলগত পরিকল্পনা ও পূর্বাভাসে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। ২০০৬ সালের লেবানন যুদ্ধের সময় পুরো দেশকে মাত্র ২৫টি সতর্কতা অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছিল। বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,৭০০। বড় শহরগুলোকে ছোট ছোট উপ-অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে, যাতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে লাখো মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে না হয়। ইসরাইলের এই উন্নত সতর্কতা ব্যবস্থা সাইরেন, ওয়েবসাইট, গণমাধ্যম, এমনকি বিশেষ রেডিও সিগন্যালের মাধ্যমে কাজ করে। তবে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে স্মার্টফোন ব্যবহারের মাধ্যমে। প্রায় ৪০ লাখ ফোনে ব্যবহৃত একটি অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক অবস্থানভিত্তিক সতর্কতা, আশ্রয় নিতে কত সময় লাগবে এবং বিপদ কেটে গেলে ‘সব ঠিক’ বার্তাও পাঠানো হয়। এই নতুন ব্যবস্থা মানুষের জীবন রক্ষাকারী হিসেবে কাজ করছে।





