নাক চেপে ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীরা! পাশে যা ঘটল জানলে অবাক হবেন

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার জয়বুননেছা গার্লস হাই স্কুলের দেয়াল সংলগ্ন উন্মুক্ত স্থানে নিয়মিত বর্জ্য ফেলার কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশের রেস্টুরেন্ট এবং বাসাবাড়ির আবর্জনা ফেলার কারণে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে তীব্র দুর্গন্ধ। এতে প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী নাক চেপে ক্লাসে বসতে বাধ্য হচ্ছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চলে আসছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনকে লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যদিও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশনা দিয়েছে, তারপরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, পরিচালনা কমিটি, মসজিদ কমিটি ও পঞ্চায়েত কমিটি একাধিকবার রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্যা সমাধানের অনুরোধ জানিয়েছে। কিন্তু তাতেও কোনো লাভ হয়নি। বরং আবর্জনা ফেলার পরিমাণ আরও বেড়েছে।
শিক্ষকরা অনেক সময় ক্লাসরুমের দরজা-জানালা বন্ধ রেখে পাঠদান করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের এই বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া রহমান মাইশা তালুকদার জানায়, “দুর্গন্ধের কারণে ক্লাসে বসে থাকতে খুব কষ্ট হয়। অনেক সময় অসুস্থ লাগতে থাকে।” বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, “এই অবস্থা চলতে থাকলে শিক্ষার পরিবেশ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।”
স্থানীয় রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্যালয়ের পাশে ময়লা ফেলেন না। নির্দিষ্ট ডাস্টবিন বা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব থাকায় তারা সাময়িকভাবে সেখানে বর্জ্য রাখছেন। তারা একটি ড্রেন নির্মাণ করে দিলে এই সমস্যা দূর করা সম্ভব বলে জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো বক্তব্য দেননি। তবে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বিষয়টি শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
এমতাবস্থায়, বিদ্যালয়ের পরিবেশ রক্ষা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার স্থায়ী সমাধান এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।





