চৈত্রের তাপদাহে পুড়ছে দেশ! কোথায় লুকিয়ে স্বস্তি?

দেশজুড়ে চৈত্রের তীব্র খরতাপ ও ভ্যাপসা গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত। বিশেষ করে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বইছে, যা আগামী রবিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মাসে দুই থেকে চারটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ এবং এক থেকে দুটি তীব্র তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। তীব্র তাপপ্রবাহের সময় তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
শুক্রবার (আজ) দুপুর ৩টার দিকে আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক জানান, গতকালের তুলনায় আজকের তাপদাহের পরিধি বেড়েছে। বর্তমানে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পাশাপাশি খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের জেলাগুলো, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর এবং নীলফামারীতেও তাপপ্রবাহ চলছে। তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তবে, বিগত বছরগুলোর (২০২৩ ও ২০২৪) তুলনায় এই বছর তাপপ্রবাহ কিছুটা কম থাকতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সে সময় টানা ২৬ দিন (২০২৪) এবং ২২ দিন (২০২৩) ধরে দেশে তাপপ্রবাহ ছিল। এবার তাপপ্রবাহ থাকলেও মাঝেমধ্যে বৃষ্টির কারণে স্বস্তি মিলতে পারে।
আগামী দুই দিন তাপমাত্রা আরও বেড়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহ বিস্তার লাভ করতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের পশ্চিমাঞ্চলে তাপপ্রবাহের পাশাপাশি সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেতে পারে। আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির আমার দেশকে জানান, আগামী রবিবার পর্যন্ত দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে এবং তাপমাত্রা আরও বেড়ে গরম বাড়বে। তবে, এসময় সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে বিচ্ছিন্নভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা চুয়াডাঙ্গায় ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। এছাড়াও মোংলায় ৩৮, রাজশাহীতে ৩৭ দশমিক ৫, তাড়াশে ৩৬ দশমিক ৮ এবং ঈশ^রদীতে ৩৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকাতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৩৬ থেকে ৩৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে মৃদু তাপপ্রবাহ, ৩৮ থেকে ৩৯.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে মাঝারি তাপপ্রবাহ, ৪০ থেকে ৪১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে তীব্র তাপপ্রবাহ এবং ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রাকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে গণ্য করা হয়।





