অর্থনীতি

যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধের দামে বিরাট ধস! কেন এমন সিদ্ধান্ত নিল বাইডেন প্রশাসন?

যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত পেটেন্ট করা বিদেশি ওষুধের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে বাইডেন প্রশাসন। তবে, তাদের সঙ্গেই চুক্তি করে এই উচ্চ শুল্ক এড়ানোর সুযোগ পাবেন রপ্তানিকারক কোম্পানিগুলো। মূলত, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো এবং জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যেসব কোম্পানি ২০২৯ সালের জানুয়ারির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন শুরু করার প্রতিশ্রুতি দেবে, তাদের ক্ষেত্রে শুল্ক কমিয়ে মাত্র ২০ শতাংশ করা হবে। এমনকি, ওষুধের মূল্য নির্ধারণে সরকারের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছালে শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহারও হতে পারে। ইতিমধ্যে কিছু চুক্তিতে দেখা গেছে, কোম্পানিগুলো তাদের নির্দিষ্ট ওষুধ সরকারি স্বাস্থ্যবীমা কর্মসূচি যেমন মেডিকেইড-এ বিদেশি বাজারের সমপর্যায়ের দামে বিক্রি করতে সম্মত হয়েছে। গত বছর ইউরোপ, যুক্তরাজ্য, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় কম শুল্কের সুবিধা বহাল থাকবে, বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে একটি চুক্তিতে দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিকৃত ওষুধ শুল্কমুক্ত রাখা হয়েছে।

তবে, এই নীতির তাৎক্ষণিক প্রভাব সীমিত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা, কারণ এটি জেনেরিক ওষুধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, যা যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। অনেক বড় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ায় তারা এই শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাবে। আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও কোম্পানি একই পথে হাঁটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নীতিটির বাস্তব প্রভাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, সবটাই মূলত দরকষাকষির অংশ, যার ফলে কোম্পানিগুলোকে আলোচনার টেবিলে আনা সহজ হবে।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button