ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ কি এবার বিশ্বযুদ্ধ! উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলোও জড়িয়ে পড়ার পথে?

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে ইরানের যুদ্ধ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে। এই সংঘাত এবার কি বিশ্বযুদ্ধের রূপ নিতে যাচ্ছে? শুধু ইরান নয়, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক, বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব, ওমান, আজারবাইজান, অধিকৃত পশ্চিম তীর, সাইপ্রাস, সিরিয়া, কাতার এবং লেবাননের মতো বহু দেশ ইতিমধ্যে প্রভাবিত হয়েছে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মার্গারেট ম্যাকমিলান বলছেন, অতীতের যুদ্ধগুলো, বিশেষ করে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের দিকে তাকালে দেখা যায়, অনেক সময় বড় সংঘাতের পেছনে কাজ করে দুর্ঘটনা আর ভুল বোঝাবুঝি। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, আর্চডিউক ফ্রানৎস ফার্দিনান্দ হত্যার ঘটনা কীভাবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধকে উস্কে দিয়েছিল। বর্তমানেও এমন ভুল বোঝাবুঝি বড় আকার ধারণ করতে পারে।
বর্তমানে ইরান, বা তার মিত্র হুথি গোষ্ঠী যদি হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে হামলা চালায়, তাহলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। এতে বড় শক্তিগুলো সরাসরি জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক দেশ সরাসরি যুদ্ধে না জড়ালেও অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার হতাহতের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১২ লাখ, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মোট হতাহতের সংখ্যার চেয়েও বেশি। এই পরিস্থিতিতে, কিছু নেতা নিজেদের ভুল স্বীকার করতে নারাজ হওয়ায় সংঘাত আরও দীর্ঘ ও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
উত্তেজনা কমাতে কূটনীতি অত্যন্ত জরুরি। পক্ষগুলোর উচিত পরস্পরের চাওয়া-পাওয়া বোঝা এবং যোগাযোগ রাখা। তেল আবিভ, ওয়াশিংটন ও তেহরানকে বুঝতে হবে যে, তারা যা অর্জন করতে পারবে তার সীমায় পৌঁছে গেছে। নিষেধাজ্ঞার শিথিলতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে ইরানের অবস্থান নিয়ে বোঝাপড়ার মাধ্যমে কেবল মধ্যস্থতার মাধ্যমেই এই শক্তিগুলো যুদ্ধবিরতিতে আসতে পারে এবং একটি দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে পৌঁছাতে পারে।





