জাতীয়

মসজিদে যত বাড়ছে বাহ্যিক চাকচিক্য, ততই কি কমছে ঈমান?

সম্প্রতি বাংলাদেশে মসজিদগুলোর বাহ্যিক সাজসজ্জা এবং আলোকসজ্জা নিয়ে নতুন বিতর্ক দেখা দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, মসজিদের বাইরে জাঁকজমকপূর্ণ আলোকসজ্জা ও বিভিন্ন কারুকার্য আল্লাহর ইবাদতের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ইসলামিক শরীয়াহ অনুযায়ী, মসজিদের মূল সৌন্দর্য হওয়া উচিত সেখানে মুসল্লিদের উপস্থিতি, শৃঙ্খলাবদ্ধ নামাজ আদায় এবং আল্লাহর জিকির। কিন্তু বর্তমান সময়ে অনেক মসজিদকেই বাইরে থেকে প্রাসাদের মতো সজ্জিত করা হচ্ছে, যা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষার সঙ্গে বেমানান বলে মনে করছেন ইসলাম বিশেষজ্ঞরা।

বিভিন্ন হাদিস ও ফতোয়া অনুযায়ী, মসজিদের অতিরিক্ত আলোকসজ্জা ও বাহ্যিক চাকচিক্যকে অপচয় ও অহংকার হিসেবে গণ্য করা হয়। এমনকি এটি কিয়ামতের আলামতও হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ও ফাতাওয়ায়ে শামী’র মতো গ্রন্থে বলা হয়েছে, প্রয়োজনের অতিরিক্ত আলোকসজ্জা ও কারুকার্য যা মুসল্লিদের মনোযোগে বিঘ্ন ঘটায়, তা ইসলামে অপছন্দনীয়। ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, খলিফা উমর (রা.) মসজিদকে সাধারণ ও ইবাদতের উপযোগী রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন, প্রদর্শনী বা ফিতনার কারণ হতে পারে এমন কোনো আড়ম্বর তিনি পছন্দ করতেন না।

এই প্রবণতা মুসলিম উম্মাহর পূর্বসূরিদের সতর্কবার্তাকেও মনে করিয়ে দেয়। ইসলামের নামে মসজিদগুলো প্রাসাদসম হলেও সেখানে আল্লাহর স্মরণ থেকে শূন্য থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায়, বাহ্যিক চাকচিক্য পরিহার করে মসজিদের আধ্যাত্মিক সৌন্দর্য—অর্থাৎ নামাজ, তিলাওয়াত ও জিকিরের মাধ্যমে আল্লাহর ঘর আবাদ করার ওপর জোর দিচ্ছেন আলেম সমাজ।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button