জাতীয়

বিটিভির ডিজিটাল সম্প্রচার শিখতে ২১ কর্মকর্তার বিদেশ সফর, কোটি টাকার প্রকল্পের বিতর্ক!

বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) ডিজিটাল সম্প্রচার ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি দেখতে ২১ জন কর্মকর্তা আগামী এপ্রিলে ইংল্যান্ড, বেলজিয়াম ও জার্মানি সফরে যাচ্ছেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে তাদের এই সরকারি আদেশের (জিও) বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এই তিন দেশে যাওয়া-আসা এবং থাকা-খাওয়ার পুরো খরচ বহন করবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

প্রকল্পের আওতায় ১৩ জন কর্মকর্তা ৪ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত জার্মানি ও বেলজিয়ামে ‘ফ্যাক্টরি ট্রেনিং’-এ অংশ নেবেন। এছাড়াও, ৩২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে বিটিভির জন্য ডিজিটাল ট্রান্সমিটারসহ আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি পছন্দ করার (প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন) জন্য আট কর্মকর্তা ২৫ এপ্রিল সফরে যাবেন।

তবে, এই সফরের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠজন এবং বিটিভির বাইরের কিছু কর্মকর্তাকেও এই সফরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি, ঠিকাদারের অর্থায়নে এই সফরকে অনেকেই ‘প্লেজার ট্রিপ’ হিসেবে দেখছেন, যা স্বার্থের সংঘাতের (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) জন্ম দিচ্ছে।

পূর্বের প্রকল্পেও দুর্নীতির অভিযোগ:
বিটিভির এই ডিজিটাল সম্প্রচার প্রকল্পটি ২০১৮ সালে ২৬০ কোটি টাকার ব্যয়ে শুরু হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ৩২৯ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। পূর্বের তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সময়ে এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল এবং এতে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। তখন ক্রয় প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই সফরের ব্যয়ভার বহনকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম জিওতে উল্লেখ করা হয়নি। তবে, ‘আমন্ত্রণকারী সংস্থা’ বলতে মূলত বিটিভির জন্য যন্ত্রপাতি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকেই বোঝানো হয়েছে।

ভবিষ্যৎ প্রভাব:
এই সফর নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় প্রকল্পের স্বচ্ছতা এবং কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভবিষ্যৎ প্রকল্পে সরকারি অর্থের অপচয় রোধে আরও কঠোর নজরদারি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button