হামের টিকা দিতে ব্যর্থ ড. ইউনূসের সরকার? যা ঘটল শিশুদের সাথে!

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বাড়ার পেছনে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা কাজ করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের মতে, ২০২৪ সালে জাতীয় টিকাদান কার্যক্রম বাস্তবায়নে ব্যর্থতা, স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্দোলনের কারণে নিয়মিত টিকাদানে ভাটা এবং গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন প্ল্যান (ওপি) বাতিল—এ তিনটি কারণ বর্তমান পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
গত ১৮ দিনে (১৫ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত) হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে তিন হাজার ৭০৯ শিশু। এর মধ্যে ৫৮৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং অন্তত ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। যদিও সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যু হয়েছে ২৭ শিশুর। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৪ সালে নির্ধারিত জাতীয় ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে শিশুদের টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। অথচ চার বছর পরপর এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে সকল শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়। সর্বশেষ ক্যাম্পেইন হয়েছিল ২০২০ সালে। এছাড়া স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্দোলনের কারণে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমেও বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটে, যেখানে মাত্র ৫৯ শতাংশ শিশু টিকা পেয়েছে। সাধারণত ৯২ শতাংশ শিশুর টিকার আওতায় না আসলে হামের মতো সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয় না। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে স্বাস্থ্য খাতের ১৭টি ওপি বাতিল করা হয়, যা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তোলে।
হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। টিকা ক্রয়সংক্রান্ত জটিলতায় টিকার অভাবে যদি হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ে, তবে তদন্ত সাপেক্ষে এতে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।





