জুলাই গণভোটের ফলাফলে ব্যাপক সংশোধনী: কমেছে ১০ লাখ ভোট, কারণ অস্পষ্ট

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের লক্ষে অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফলে বড় ধরনের সংশোধনী এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন গেজেট অনুযায়ী, পূর্বে ঘোষিত ফলাফলের তুলনায় ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ মিলিয়ে মোট ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬টি ভোট কমেছে।
বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত একটি অতিরিক্ত গেজেটের মাধ্যমে এই সংশোধনী তথ্য জানানো হয়। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রথম গেজেটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০টি এবং ‘না’ ভোটের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬টি। সেই গেজেট অনুযায়ী, মোট প্রদত্ত বৈধ ভোট ছিল ৭ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৬টি।
সংশোধিত গেজেটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০টি, যা পূর্বে ঘোষিত সংখ্যার চেয়ে ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮০টি কম। একইভাবে, ‘না’ ভোটের সংখ্যা কমে হয়েছে ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১টি, যা আগের চেয়ে ১ লাখ ১১ হাজার ৪৯৫টি কম। সার্বিকভাবে, ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ মিলিয়ে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬টি কমে দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ৪০৭টি। এর ফলে, মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৯১ লাখ ৮৬ হাজার ২১১টি।
আশ্চর্যজনকভাবে, বৈধ ভোট কমলেও বাতিল ভোটের সংখ্যা ১২ হাজার ৫৫৯টি বেড়ে ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৬টিতে দাঁড়িয়েছে।
এই গণভোটের মাধ্যমেই ‘জুলাই জাতীয় সনদের’ সাংবিধানিক বৈধতা ও জনসম্মতি চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে। তবে, এত বড় ফলাফলের সংশোধনীর সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ নির্বাচন কমিশন উল্লেখ করেনি। ইসির বিজ্ঞপ্তিতে কেবল বলা হয়েছে, কমিশনের আদেশক্রমেই এই সংশোধনী গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
গণভোটের ফলাফলে এমন উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এবং এর পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণের অনুপস্থিতি জনমনে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। বিশেষত, যখন এই গণভোট ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর সাংবিধানিক বৈধতা এবং জনগণের সম্মতি যাচাইয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।





