এসএসসি পরীক্ষার নতুন নিয়ম! মানি বা না মানি, এটাই মানতে হবে

আর মাত্র কয়েক দিন পরেই শুরু হতে চলেছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। আগামী ২১ এপ্রিল থেকে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কেন্দ্রসচিবদের জন্য একগুচ্ছ জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। এই নতুন নিয়মগুলো পরীক্ষার্থী ও কেন্দ্রসচিব উভয়ের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে, অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় পরিবর্তন এসেছে। তারা এখন থেকে ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ী প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় বসবে। অন্যদিকে, নিয়মিত পরীক্ষার্থীরা বসবে ২০২৬ সালের সিলেবাসের প্রশ্নপত্রে। এছাড়াও, পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে প্রশ্নপত্রের প্যাকেট যাচাই, সিকিউরিটি খামে প্রশ্নপত্র প্যাকেট করা, ট্রেজারি থেকে প্রশ্নপত্র গ্রহণ এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে কেন্দ্রে আনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মূলত, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পরীক্ষা পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা আনতে এই নির্দেশনাগুলো জারি করা হয়েছে। কেন্দ্রসচিবকে প্রশ্নপত্রের প্যাকেট যাচাই, সিকিউরিটি খামে সিলগালা করা এবং সঠিক সেট কোডের প্রশ্নপত্র ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। যেকোনো ত্রুটির জন্য কেন্দ্রসচিবকেই দায়ী থাকতে হবে।
পরীক্ষা কক্ষে মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রিক ডিভাইস নিয়ে প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে ছবি তোলা যায় না এমন মোবাইল ফোন কেন্দ্রসচিব ব্যবহার করতে পারবেন। প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন কক্ষ পরিদর্শক দায়িত্ব পালন করবেন এবং প্রতিটি কক্ষে অন্তত দুজন পরিদর্শক থাকবেন। আসন বিন্যাস নিয়েও নতুন নির্দেশনা এসেছে, যেখানে প্রতি বেঞ্চে নির্ধারিত সংখ্যক পরীক্ষার্থী বসতে পারবে।
পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। বিশেষ বিবেচনায় দেরিতে আসা পরীক্ষার্থীদের বিশেষ খাতায় লিপিবদ্ধ করে প্রবেশাধিকার দেওয়া যেতে পারে। পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জটলা এড়াতে হ্যান্ড মাইক বা সিসি ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই নতুন নিয়মগুলোর মাধ্যমে প্রশ্নফাঁস রোধ এবং পরীক্ষার সার্বিক মানোন্নয়ন করা সরকারের মূল লক্ষ্য। এই পরিবর্তনগুলো শিক্ষার্থীদের উপরও প্রভাব ফেলবে, বিশেষ করে যারা নতুন সিলেবাসে অভ্যস্ত নয়। এই নির্দেশনাগুলো সঠিকভাবে পালন করা হলে এসএসসি পরীক্ষা আরও সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।





