ব্যাংকের চেয়ারম্যানের ‘নিরাপদ’ আশ্বাস: আমানতকারীদের কি ভরসা হবে?

সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের (এসবিএসি) ১৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোখলেসুর রহমান আমানতকারীদের আশ্বস্ত করেছেন যে তারা ব্যাংকের কাছে নিরাপদ রয়েছেন। তিনি জানান, গ্রাহক সেবার জন্য বোর্ড ও ম্যানেজমেন্ট থেকে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং দেশ ও গ্রাহকদের প্রতি ব্যাংকের পূর্ণ প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
চেয়ারম্যান বলেন, ব্যাংকিং খাতের মূল ভিত্তি হলো আস্থা, যা দীর্ঘদিনের নৈতিক চর্চা এবং উচ্চমানের মানদণ্ড বজায় রাখার মাধ্যমে অর্জিত হয়। এসবিএসি ব্যাংকের দক্ষ জনবল রয়েছে এবং তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। তিনি দেশের সাফল্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে বিনিয়োগের ওপর জোর দেন। পাশাপাশি, বিদেশে কর্মরতদের জন্য ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস এবং তরুণ প্রজন্মকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলে জাতীয় অর্থনীতিতে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যের কথাও জানান।
মোখলেসুর রহমান উল্লেখ করেন যে, ব্যাংকিং খাতে ঋণের টাকা অন্য খাতে সরিয়ে নেওয়া একটি বড় সমস্যা। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, তরুণ উদ্যোক্তাদের দেওয়া ঋণ যদি তারা ব্যবসায় বিনিয়োগ না করে অন্য কাজে ব্যবহার করেন, তবে সমস্যা তৈরি হয়।
ব্যাংকের সম্পদের মানের ওপর চাপ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার লভ্যাংশ দেওয়ার বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে অ্যাসেট কোয়ালিটি প্রায় ৯৪ শতাংশের মতো। তবে এই সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মঈনুল কবীর জানান, এসবিএসি ব্যাংক তারল্য সংকটে নেই এবং গ্রাহকদের আস্থা নিয়েই ব্যাংক পরিচালনা হচ্ছে। তারা আগ্রাসী বিনিয়োগে বিশ্বাসী নন, বরং দেখে শুনে ভালো গ্রাহকদের মাঝে বিনিয়োগ করছেন। কোভিড-১৯ মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বড় ঋণগ্রহীতারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় খেলাপি ঋণ বেড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রদত্ত নীতি সহায়তা অনিচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের দেওয়া হচ্ছে। তবে, ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ব্যাংক এখন বড় ঋণের চেয়ে মাঝারি, উদীয়মান এবং ক্ষুদ্র সেক্টরের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, বিশেষ করে তরুণ উদ্যোক্তাদের নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। শ্রেণিবদ্ধ ঋণ সহনীয় মাত্রায় আনতে প্রতিদিন কাজ করা হচ্ছে।





