অর্থনীতি

ভোজ্যতেল নিয়ে নতুন চাল! দাম বাড়াতে কোম্পানিগুলোর ভয়ংকর ষড়যন্ত্র ফাঁস

জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের মধ্যেই বাজারে ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন খুচরা বিক্রেতারা। কোম্পানিগুলো বোতলজাত সয়াবিনের সরবরাহ ব্যাপকহারে কমিয়ে দেওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই কৃত্রিম সংকট মোকাবিলা করতে না পারলে ভোক্তাদের নতুন করে বিপদে পড়ার আশঙ্কা।

গত বুধবার কোম্পানিগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কারণ দেখিয়ে ভোজ্যতেলের দাম সমন্বয়ের দাবি জানায়। বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ট্যারিফ কমিশনে এ বিষয়ে চিঠি দিলেও সরকার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাস দেড়েকের বেশি সময় ধরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট চলছে। কোম্পানিগুলো চাহিদার তুলনায় কম তেল বাজারে আনছে। ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন কমিয়ে দেওয়ায় তারা তেল বিক্রিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফলে, বর্তমানে বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম।

কিছু বিক্রেতা জানিয়েছেন, কোম্পানিগুলো সরকারের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে না পেরে ইচ্ছাকৃতভাবে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। এতে দাম না বাড়লেও খুচরা বিক্রেতাদের লাভ কমে যাওয়ায় তারা সয়াবিন তেল বিক্রি করতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।

এদিকে, বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকটের মধ্যেই খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দামও কিছুটা বেড়েছে। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন তেল ১৯৮ থেকে ২০০ টাকা এবং খোলা পাম তেল ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সিনিয়র সহ-সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, সরকারি নজরদারির অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সিন্ডিকেট, মজুতদারি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। কোম্পানিগুলো কৌশলে ভোজ্যতেলের দাম বাড়াতে সরকারকে বাধ্য করার চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতি থেকে ভোক্তাদের বাঁচাতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button