জামায়াত

সংসদে তোলপাড়! সংবিধান সংস্কার নিয়ে তুমুল বিতর্কে জড়িয়ে পড়ল সরকার-বিরোধী!

জাতীয় সংসদে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান নিয়ে তুমুল বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই আলোচনায় সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ অবস্থানে থেকে যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করেন। তবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয় আলোচনা।

বিস্তারিত:
আলোচনার সূত্রপাত হয় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের উত্থাপিত ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের আহ্বান’ বিষয়ক মুলতবি প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে। সরকারি দলের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান এবং বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ আলোচনায় অংশ নেন। অন্যদিকে, বিরোধী দল থেকে ডা. শফিকুর রহমানসহ জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির সংসদ সদস্যরা বক্তৃতা রাখেন।

আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে ‘অন্তহীন প্রতারণার দলিল’ আখ্যায়িত করে এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রপতির এই আদেশ দেওয়ার এখতিয়ার নেই এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কোনো সুযোগ নেই।

তবে এর জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই আদেশকে অন্তহীন প্রতারণা বলা হলেও সরকারি দলের ইচ্ছাতেই গণভোট ও সংসদ নির্বাচন একই দিনে হয়েছে। তিনি গণভোটের জনসমর্থনের কথা উল্লেখ করে এটিকে ‘অন্তহীন প্রতারণা’ বলাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন।

আলোচনার এক পর্যায়ে, সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে একটি সর্বদলীয় বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেয় সরকারি দল। জবাবে বিরোধী দলও দুই দলের সমান সংখ্যক সদস্য নিয়ে একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেয়। তবে এ বিষয়ে স্পিকার কোনো সিদ্ধান্ত দেননি।

এ সময় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন এবং আন্দালিব রহমান পার্থের বক্তব্যে বাহবা দেন।

**ভবিষ্যৎ প্রভাব:**
সংসদে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় সংবিধান সংস্কারের বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। ভবিষ্যতে এই বিতর্ক কি রূপ নেয় এবং এটি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কি প্রভাব ফেলে, তা সময়ই বলে দেবে।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button