রংপুর বিভাগ

জ্বালানি তেলের আকাল: মজুত ধরে জেল-জরিমানা, তেল কিনতে গিয়ে কৃষকের মৃত্যু!

সারাদেশের ন্যায় দিনাজপুর জেলাতেও তীব্র জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে আসা যানবাহন ও চালকদের দীর্ঘ লাইন প্রতিদিনের চিত্র। প্রয়োজনীয় তেল না পেয়ে অনেকে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন, কোথাও কোথাও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে, তেল সংগ্রহ করতে এসে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে এনায়েতুল করিম নামে এক কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে। অভিযোগ উঠেছে, কিছু ফিলিং স্টেশনে অনুমোদনের অতিরিক্ত জ্বালানি তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। গত ২৯ মার্চ দিনাজপুর সদর উপজেলার ফুলতলা বাজার এলাকার ‘মেসার্স শামীম ট্রেডার্স’ ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়ে অতিরিক্ত পেট্রোল মজুতের দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেখানে অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ পেট্রোল ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল মজুত পাওয়া যায়। অতিরিক্ত পেট্রোল সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা হয়। এর আগে, ২৮ মার্চ বীরগঞ্জ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ডিজেল ও অকটেন জব্দ করা হয় এবং এক ব্যক্তিকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

এদিকে, এনায়েতুল করিম নামে এক কৃষক ২৬ মার্চ কাহারোল উপজেলার সুন্দইল আছমা লতিফা ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে গিয়ে দীর্ঘ সময় রোদে দাঁড়িয়ে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। জেলা শহরের কয়েকটি পাম্পে তেল সংগ্রহকে কেন্দ্র করে চালক ও কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।

দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলার ৯২টি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল সরবরাহ কার্যক্রম তদারকি জোরদার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট জানিয়েছেন, জ্বালানি তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা বাজার অস্থিতিশীল করার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না এবং অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। প্রশাসনের এই কঠোর নজরদারিতে পরিস্থিতির স্বাভাবিকতা ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button