এসএসসিতে নকল ঠেকাতে শিক্ষামন্ত্রীর নতুন ঘোষণা! যা ঘটল এবার…

আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নকল ও প্রশ্ন ফাঁসমুক্ত করতে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি এই পরীক্ষায় কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নকল ও প্রশ্ন ফাঁসের মতো ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ করা নতুন শিক্ষামন্ত্রীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শিক্ষামন্ত্রী ইতোমধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাবোর্ডসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। পরীক্ষায় নকল ও অনিয়ম চিরতরে নির্মূল করতে তিনি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরীক্ষার আগেই বোর্ড কর্তৃপক্ষের কেন্দ্র পরিদর্শন ও প্রতিবেদন জমা দেওয়া, সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ নানা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পরীক্ষার সময় কেন্দ্র পরিদর্শনেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। শিক্ষামন্ত্রী নিজেও আগের মতো কপ্টারে করে বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে পরিদর্শনে যাবেন বলে জানা গেছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে কেন্দ্রসচিবসহ মাঠ পর্যায়ের সংশ্লিষ্টদের প্রতি ১১ দফা বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে। এসকল নির্দেশনা হলো: প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও সচল রাখা, সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণকৃত সব ভিডিও সংরক্ষণ করা, প্রতিটি কক্ষে ঘড়ি লাগানো, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে পরামর্শক্রমে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা, কেন্দ্রসচিব ব্যতীত অন্য কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবে না, পরীক্ষার্থীদের দেহ তল্লাশি করে কেন্দ্রে প্রবেশ এবং মেয়ে পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে নারী শিক্ষক দ্বারা তল্লাশির ব্যবস্থা করা। এছাড়াও, পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রধান ফটকে বিশেষ নির্দেশনা টানিয়ে দেওয়া, পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষাবোর্ডের দেওয়া নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে হবে। এ সকল নির্দেশনা প্রতিপালনে কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, পরীক্ষার আগেই কেন্দ্র পরিদর্শনের জন্য শিক্ষাবোর্ডগুলো দল গঠন করেছে। ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শনে ঢাকা মহানগরীর জন্য আটটি এবং ঢাকাসহ অন্যান্য জেলার জন্য আরো আটটি দল গঠন করা হয়েছে। এই দলগুলো কেন্দ্র পরিদর্শনকালে স্থানীয় প্রশাসন, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কেন্দ্রসচিব ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করবে। এসব সভার ভিডিও সংরক্ষণ করা হবে এবং প্রতিটি কেন্দ্র সম্পর্কে আলাদা সুস্পষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। ২৯ মার্চ থেকে ১৩ এপ্রিলের মধ্যে এই পরিদর্শন শেষ করতে হবে।





