গণরায় ছিনতাইয়ের অভিযোগ: নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে গুরুতর অভিযোগ করেছেন। তার দাবি, বর্তমান ক্ষমতাসীন দল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভোটে নয়, বরং নানা কৌশল ও ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে নিজেদের পক্ষে ফলাফল নিয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মনিপুর উচ্চবিদ্যালয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির তার বক্তব্যে বিগত নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে দেশ বিভিন্ন রাজনৈতিক পালাবদল দেখলেও ইসলামের আদর্শভিত্তিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তিনি দাবি করেন, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম পরিবর্তন চেয়েছিল এবং সংস্কার ও পরিবর্তনের পক্ষে বিপুলসংখ্যক মানুষ সমর্থন জানিয়েছিল, যা জনগণের মনোভাবেরই প্রতিফলন। তার এসব অভিযোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে তাদের ভোটাধিকারের কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
ডা. শফিকুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, যারা বর্তমানে ক্ষমতায় রয়েছেন, তারা সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোট পাননি। নির্বাচনের অনিয়ম ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’, বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ এবং বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে ফলাফল প্রভাবিত করার কথা উল্লেখ করেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের দলের এজেন্টদের ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। তবে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় তার দল শক্ত অবস্থান নেবে বলেও জানান।
সংবিধান অনুযায়ী স্বল্প আসন পেয়েও সংসদে যোগদানের বিষয়ে তিনি বলেন, জনগণের ভোটের যে অংশের স্বীকৃতি মিলেছে, সেটির মর্যাদা রক্ষার্থেই তারা সংসদে গিয়েছেন। সেখানে দলীয় নয়, বরং জনগণের স্বার্থে কথা বলবেন এবং অধিকার আদায়ে ভূমিকা রাখবেন বলে উল্লেখ করেন।
তার বক্তব্যে সরকারের কিছু ইতিবাচক সিদ্ধান্তের প্রশংসাও করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এমপি-মন্ত্রীদের সরকারি প্লট ও করমুক্ত গাড়ি সুবিধা না নেওয়ার ঘোষণা তারাই আগে দিয়েছিলেন। সরকার একই পথে হাঁটায় তিনি অভিনন্দন জানান। এছাড়া প্রবাসী আয়-সংক্রান্ত কর্মীদের মরদেহ রাষ্ট্রীয় খরচে দেশে আনার সিদ্ধান্তকেও ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন।
ঢাকা-১৫ (মিরপুর-কাফরুল) এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশে তিনি পবিত্র রমজান মাসে চাঁদাবাজি বন্ধের আহ্বান জানান। কেউ চাঁদা দাবি করলে তা না দিতে এবং কোনো বাধা এলে দলকে জানাতে অনুরোধ করেন।
নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে জামায়াত আমিরের এমন অভিযোগ দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ এবং জনগণের ভোটাধিকারের প্রতি আস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তার এই বক্তব্য সাধারণ মানুষের মনে একদিকে যেমন দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে, তেমনি ভবিষ্যতে স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশাকেও জাগিয়ে তুলেছে। ডা. শফিকুর রহমান ভবিষ্যতে মাসে অন্তত একদিন সরাসরি জনগণের মুখোমুখি হয়ে তাদের মতামত, সমালোচনা ও পরামর্শ শোনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন, যা জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।





